• আন্তর্জাতিক
  • ইউক্রেন-রাশিয়া শান্তি আলোচনায় ‘বড় অগ্রগতি’: জেনেভা বৈঠকে ট্রাম্পের দূতের ইতিবাচক বার্তা

ইউক্রেন-রাশিয়া শান্তি আলোচনায় ‘বড় অগ্রগতি’: জেনেভা বৈঠকে ট্রাম্পের দূতের ইতিবাচক বার্তা

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
ইউক্রেন-রাশিয়া শান্তি আলোচনায় ‘বড় অগ্রগতি’: জেনেভা বৈঠকে ট্রাম্পের দূতের ইতিবাচক বার্তা

যুদ্ধের চতুর্থ বর্ষপূর্তির আগে সুইজারল্যান্ডে মার্কিন মধ্যস্থতায় মুখোমুখি কিয়েভ ও মস্কো; স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজছেন বিশ্বনেতারা।

ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধে অবশেষে আশার আলো দেখছে বিশ্ব। ওয়াশিংটনের বিশেষ উদ্যোগে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় শুরু হওয়া উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনায় ‘গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি’ হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। যুদ্ধের চার বছর পূর্ণ হওয়ার ঠিক আগে এই কূটনৈতিক তৎপরতা বৈশ্বিক রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

জেনেভার টেবিলে ৬ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠক

গত মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জেনেভা শহরে শুরু হওয়া এই বৈঠকে ইউক্রেন ও রাশিয়ার প্রতিনিধিরা প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে রুদ্ধদ্বার আলোচনা করেন। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দ্বিতীয় দিনের আলোচনার প্রস্তুতির মাঝেই মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ এক বিবৃতিতে ইতিবাচক অগ্রগতির কথা জানান। তিনি বলেন, “যুদ্ধ বন্ধে উভয় পক্ষকে এক টেবিলে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং নেতৃত্ব অর্থপূর্ণ সাফল্য এনেছে। এই ভয়াবহ সংঘাত ও প্রাণহানি বন্ধে কাজ করতে পেরে আমরা গর্বিত।”

উইটকফ আরও জানান, দীর্ঘ আলোচনার পর উভয় পক্ষই একটি সুনির্দিষ্ট চুক্তির (Peace Treaty) দিকে এগোতে সম্মত হয়েছে, যা সংঘাত নিরসনে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

জেলেনস্কির ‘সম্মানজনক শান্তি’ ও বাস্তবমুখী অবস্থান

আলোচনায় অগ্রগতির খবর মিললেও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির কণ্ঠে কিছুটা সতর্কবার্তা শোনা গেছে। নিজের নিয়মিত নৈশ ভাষণে তিনি জানান, জেনেভায় থাকা প্রতিনিধি দলের বিস্তারিত রিপোর্টের অপেক্ষায় আছেন তিনি। জেলেনস্কি স্পষ্টভাবে বলেন, “রাশিয়াকে জয় উপহার দিয়ে কোনো শান্তি আনা সম্ভব নয়। আমরা একটি সম্মানজনক চুক্তির (Honorable Deal) দিকে দ্রুত এগোতে প্রস্তুত, তবে প্রশ্ন হলো—রাশিয়া আসলে শেষ পর্যন্ত কী চায়?”

তিনি আরও যোগ করেন, ইউক্রেনকে বারবার সমঝোতার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে, যা ন্যায্য নয়। কিয়েভ চায় এমন এক সমাধান যা তাদের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষা করবে।

ট্রাম্পের চাপ ও ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ

হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তিনি দ্রুত এই যুদ্ধ বন্ধ করবেন। ট্রাম্পের বিশেষ দূত উইটকফ সেই লক্ষ্যেই এই 'Diplomatic Mission' পরিচালনা করছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার অবস্থানে খুব বড় কোনো পরিবর্তন এখনো দেখা যায়নি। মস্কো এখনো দখলকৃত ভূখণ্ডগুলো নিয়ে তাদের আগের দাবিতে অনড় রয়েছে।

এদিকে ইউক্রেনের প্রধান আলোচক রুস্তম উমেরভ জানিয়েছেন, প্রথম দিনের বৈঠকে মূলত কিছু বাস্তবসম্মত সমস্যা (Practical Issues) এবং সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া না এলেও তারা আলোচনার টেবিলে টিকে থাকাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।

ভবিষ্যৎ কী ও কতদূর?

সুইজারল্যান্ডের এই বৈঠক সফল করতে ইউক্রেনের ওপর কিছুটা চাপের ইঙ্গিত দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি মনে করেন, আলোচনার সফলতা অনেকাংশেই কিয়েভের নমনীয়তার ওপর নির্ভর করছে। তবে দীর্ঘ চার বছরের সংঘাতের পর যেখানে লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সেখানে একটি স্থায়ী 'Ceasefire' বা যুদ্ধবিরতি অর্জন করা ওয়াশিংটনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

বিশ্বের নজর এখন জেনেভার দ্বিতীয় দিনের বৈঠকের দিকে। যদি সত্যিই কোনো লিখিত সমঝোতা বা 'Roadmap' তৈরি হয়, তবে তা হবে বর্তমান দশকের অন্যতম বড় ভূ-রাজনৈতিক (Geopolitics) সাফল্য।

Tags: donald trump ukraine war peace talks international relations zelenskyy news russia ukraine global politics steve witkoff geneva summit ceasefire update