রহস্যময় মৃত্যুর প্রেক্ষাপট গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার নিজ বাসায় মৃত্যু হয় আফরা ইবনাত খান ইকরার। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করলেও তার ঘনিষ্ঠ মহল এটি মানতে নারাজ। ইকরার দীর্ঘ ১১ বছরের বান্ধবী সামিয়া আলম অভিযোগ তুলেছেন যে, মৃত্যুর ঠিক আগমুহূর্তে জাহের আলভীর সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন ইকরা। আলভীর সেই সময়ের কিছু কথা ইকরার জন্য সহ্য করা কঠিন হয়ে পড়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বন্ধুদের সঙ্গে শেষ আলাপ সামিয়া আলম ও খাদিজা লুপিন—ইকরার এই দুই ঘনিষ্ঠ বান্ধবী জানান, তারা একটি ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে সারাক্ষণ যুক্ত থাকতেন। ঘটনার দিন সকালেও ইকরা সেই গ্রুপে সক্রিয় ছিলেন। সকাল ১০টা ৪৬ মিনিটে ইকরা জানিয়েছিলেন তিনি নেপাল যাবেন। বন্ধুরা ভেবেছিলেন রাগের মাথায় তিনি এমনটা বলছেন। কিন্তু দুপুর ১টা ২৭ মিনিটে পুনরায় যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে আর কোনো উত্তর মেলেনি। ততক্ষণে সব শেষ হয়ে গিয়েছিল।
সংসার ও বিচ্ছেদের সুর জানা গেছে, জাহের আলভী ও ইকরার দাম্পত্য জীবনে বেশ কিছু দিন ধরেই টানাপোড়েন চলছিল। সামিয়া জানান, ইকরা আলভীকে ডিভোর্স দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছিলেন। এমনকি তাদের সন্তান রিজিকের ভবিষ্যৎ এবং ব্যবসার ভাগাভাগি নিয়েও তাদের মধ্যে আলোচনা চলছিল। আলভী শুটিংয়ের কাজে নেপালে থাকায় তিনি দেশে ফিরলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা ছিল।
পরবর্তী পদক্ষেপ আজ রোববার (১ মার্চ) ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ইকরার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে, নেপাল থেকে আজই জাহের আলভীর দেশে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং আলভীর বক্তব্য পাওয়ার পরই এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ পরিষ্কার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে ইকরার পরিবার ও ভক্তদের মাঝে গভীর শোক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।