মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম—যেখানে ক্রিকেটের আবেগ আর উন্মাদনা মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। সেই চেনা মাঠেই আজ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও ইংল্যান্ড। টুর্নামেন্টের শুরু থেকে আধিপত্য বিস্তার করে আসা টিম ইন্ডিয়ার সামনে এখন শিরোপা পুনরুদ্ধারের মিশন। অন্যদিকে, ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন তকমা না থাকলেও হ্যারি ব্রুকের নেতৃত্বাধীন ইংল্যান্ড আবারও প্রমাণ করতে চায় কেন তারা বৈশ্বিক আসরের অন্যতম শক্তিশালী ‘ক্লিনিক্যাল মেশিন’ (Clinical Machine)।
ভারতের ‘পাওয়ারপ্লে’ রণকৌশল ও সূর্য-ম্যাজিক
গ্রুপ ওয়ান থেকে রানার্স আপ হয়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে ভারত। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত হার বাদ দিলে জিম্বাবুয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দাপুটে জয় আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে রেখেছে মেন ইন ব্লু-কে। ভারতের ব্যাটিং অর্ডারে এখন প্রধান অস্ত্র হয়ে উঠেছেন ইশান কিষান ও সাঞ্জু স্যামসন। পাওয়ারপ্লে (Powerplay) ওভারে ২০০-র ওপর স্ট্রাইক রেটে (Strike Rate) ব্যাটিং করে তারা প্রতিপক্ষ বোলারদের ওপর শুরুতেই মানসিক চাপ তৈরি করছেন।
তবে মিডল অর্ডারে ভারতের মূল ভরসার নাম অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। ৩৫৯ রান নিয়ে আসরের অন্যতম শীর্ষ রান সংগ্রাহক সূর্য এখন যেকোনো বোলিং লাইনআপের জন্য মূর্তিমান আতঙ্ক। তার উদ্ভাবনী শট আর মাঠের চারদিকে বল পাঠানোর দক্ষতা ভারতকে বড় সংগ্রহের স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
বুমরাহ-অর্শদীপ জুটির পেস অ্যাটাক
মুম্বাইয়ের উইকেটে পেসাররা বাড়তি সুবিধা পেয়ে থাকেন। সেই কন্ডিশনকে কাজে লাগাতে প্রস্তুত জাসপ্রিত বুমরাহ ও অর্শদীপ সিং। বুমরাহ’র নিখুঁত ইয়র্কার আর অর্শদীপের সুইং (Swing) সামলানো হবে ইংলিশ ওপেনারদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ভারতের এই পেস আক্রমণ বর্তমানে বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সেরা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইংল্যান্ডের ‘থ্রি লায়ন’ ও আদিল রশিদের ঘূর্ণি
প্রতিপক্ষ যখন ইংল্যান্ড, তখন লড়াইটা যে সমানে-সমান হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। হ্যারি ব্রুকের নেতৃত্বে তারা একটি ভারসাম্যপূর্ণ দল হিসেবে টুর্নামেন্টে টিকে আছে। বিশেষ করে মিডল অর্ডারে ব্রুক নিজে এবং ফিনিশার (Finisher) হিসেবে স্যাম কারান ও ফিল সল্টের বিধ্বংসী ব্যাটিং ভারতের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলতে পারে।
বোলিংয়ে ইংল্যান্ডের বড় শক্তি তাদের স্পিন বিভাগ। অভিজ্ঞ আদিল রশিদ এবং লিয়াম ডসন মাঝের ওভারগুলোতে রান আটকে রাখার পাশাপাশি উইকেট তুলে নিতে পারদর্শী। ভারতের স্পিন-নির্ভর মিডল অর্ডারকে আটকাতে রশিদের ‘গুগলি’ হতে পারে ইংলিশদের প্রধান অস্ত্র।
অ্যাডিলেড ট্রমা ও প্রতিশোধের হাতছানি
পরিসংখ্যানের বিচারে শেষ ৫টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের ৪টিতেই জিতেছে ভারত। তবে নকআউট (Knockout) পর্বের চাপ সবসময়ই ভিন্ন। ২০২২ সালের বিশ্বকাপে অ্যাডিলেডে ইংল্যান্ডের কাছে ১০ উইকেটে হারের সেই দগদগে ক্ষত এখনও ভারতীয় সমর্থকদের মনে তরতাজা। ঘরের মাঠে সেই হারের প্রতিশোধ নেওয়ার এর চেয়ে বড় সুযোগ আর হতে পারে না।
আজকের এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে যে দল স্নায়ুর চাপ সামলে নিজেদের ‘গেম প্ল্যান’ সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারবে, তারাই লর্ডসের ফাইনালের টিকিট হাতে পাবে। ওয়াংখেড়েতে কি আজ নীল সমুদ্রের গর্জন শোনা যাবে, নাকি ব্রিটিশ সিংহের হুঙ্কারে স্তব্ধ হবে মুম্বাই? উত্তর মিলবে কয়েক ঘণ্টা পরেই।