রাজধানীর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে এক অনন্য আবহের সৃষ্টি হলো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত ইফতার মাহফিলকে কেন্দ্র করে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও প্রভাবশালী কূটনীতিকদের সম্মানে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উঠে এল বৈশ্বিক সংহতি এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের এক নতুন সমীকরণ। শনিবার (৭ মার্চ) জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে আয়োজিত এই ইফতার মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের 'Diplomatic Corps' বা কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা।
বিশ্বের শীর্ষ শক্তির সরব উপস্থিতি
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এই ইফতার অনুষ্ঠানটি কার্যত একটি কূটনৈতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়। আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকায় ছিল যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, ভারত, তুরস্ক, ফ্রান্স এবং জার্মানির মতো শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিরা। এছাড়াও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) এবং মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা উপস্থিত হয়ে এক ইতিবাচক বার্তায় শরিক হন।
শুধুমাত্র নির্দিষ্ট রাষ্ট্র নয়, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের উপস্থিতিও ছিল লক্ষ্যণীয়। জাতিসংঘভুক্ত সংস্থা ইউএনডিপি (UNDP), ইউনিসেফ (UNICEF), ইউএনএইচসিআর (UNHCR) ছাড়াও আইওএম (IOM) এবং ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের শীর্ষ প্রতিনিধিরা এই আয়োজনে অংশ নেন।
ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির ওপর গুরুত্বারোপ
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান অভ্যাগত অতিথিদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি আধুনিক বিশ্বের 'Geopolitics' বা ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থান এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশ বিশ্ব সম্প্রদায়ের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়। আমরা বিশ্বাস করি, মানবিক মূল্যবোধ এবং ন্যায়বিচারই হতে পারে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মূল ভিত্তি।” তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী দিনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে বাংলাদেশের এই সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।
রমজানের শিক্ষা ও বিশ্ব শান্তি
পবিত্র রমজান মাসের আধ্যাত্মিক গুরুত্ব তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, রমজানের মূল শিক্ষা হলো সংযম, সহমর্মিতা এবং আত্মশুদ্ধি। এই গুণাবলি ধারণ করার মাধ্যমেই একটি শান্তিপূর্ণ ও ‘Welfare Society’ বা কল্যাণমুখী সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব। তিনি কেবল বাংলাদেশ নয়, বরং সমগ্র মুসলিম উম্মাহ এবং বিশ্ব মানবতার শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া করেন।
দলীয় নেতৃত্বের সংহতি
এই গুরুত্বপূর্ণ ইফতার মাহফিলে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন। দলের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ ও কর্মপরিষদের শীর্ষ নেতারা বিদেশি অতিথিদের স্বাগত জানান এবং কুশল বিনিময় করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদ ভবনের মতো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের নিয়ে জামায়াতের এই আয়োজন দলটির ‘Diplomatic Outreach’ বা কূটনৈতিক তৎপরতার ক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোকে আরও স্পষ্ট করতে সহায়ক হবে।