• মতামত
  • এসএমই ও স্টার্টআপ বিপ্লব: বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির নতুন চালিকাশক্তি হতে পারে এফবিসিসিআই

এসএমই ও স্টার্টআপ বিপ্লব: বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির নতুন চালিকাশক্তি হতে পারে এফবিসিসিআই

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করতে এফবিসিসিআই-এর নেতৃত্ব ও নীতিনির্ধারণী ভূমিকার গুরুত্ব বিশ্লেষণ।

মতামত ১ মিনিট পড়া
এসএমই ও স্টার্টআপ বিপ্লব: বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির নতুন চালিকাশক্তি হতে পারে এফবিসিসিআই

বাংলাদেশ বর্তমানে এক গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য অর্জনে প্রবৃদ্ধির নতুন ইঞ্জিনের প্রয়োজন। এই প্রেক্ষাপটে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) এবং উদীয়মান স্টার্টআপ খাতকে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। দেশের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন এফবিসিসিআই কীভাবে এই দুই খাতের বিপ্লবে নেতৃত্ব দিতে পারে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা।

বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিত্তি মজবুত করতে এসএমই এবং স্টার্টআপ খাতের ভূমিকা অপরিসীম। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৯৯ শতাংশই ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের অন্তর্ভুক্ত।

অর্থনীতির প্রাণশক্তি এসএমই ও স্টার্টআপ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (BBS) তথ্যমতে, এসএমই খাত জাতীয় কর্মসংস্থানের ৮০ শতাংশের বেশি সৃষ্টি করে এবং জিডিপিতে প্রায় ২৫-৩০ শতাংশ অবদান রাখে। অন্যদিকে, গত এক দশকে বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম অভাবনীয় উন্নতি করেছে। ২০২১ সালে দেশের স্টার্টআপগুলো প্রায় ৪০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। ফিনটেক, ই-কমার্স ও লজিস্টিকস খাতের এই অগ্রগতি আধুনিক অর্থনীতি গড়ার পথ প্রশস্ত করছে।

চ্যালেঞ্জ ও বিদ্যমান সংকট সম্ভাবনা থাকলেও অর্থায়ন প্রাপ্তি এই খাতের জন্য সবচেয়ে বড় বাধা। উচ্চ সুদের হার, জামানতভিত্তিক ঋণ ব্যবস্থা এবং দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেক উদ্যোক্তা ঝরে পড়ছেন। আন্তর্জাতিক অর্থ কর্পোরেশনের (IFC) মতে, বাংলাদেশের এসএমই খাতে আনুষ্ঠানিক অর্থায়নের একটি বিশাল ঘাটতি রয়েছে, যা নিরসন করা জরুরি।

এফবিসিসিআই-এর নতুন ভূমিকা ও করণীয় এফবিসিসিআই কেবল একটি প্রতিনিধিত্বমূলক সংগঠন নয়, বরং একে একটি শক্তিশালী 'পলিসি থিংক ট্যাংক' হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তাব করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে চারটি প্রধান পদক্ষেপ কার্যকর হতে পারে:

১. ডেটা অবজারভেটরি ও পলিসি গবেষণা: একটি জাতীয় এসএমই ও স্টার্টআপ ডেটা অবজারভেটরি গঠন করা প্রয়োজন, যা খাতভিত্তিক তথ্য ও আঞ্চলিক বৈষম্য বিশ্লেষণে কাজ করবে।

২. বিকল্প অর্থায়ন ও পুঁজিবাজার: ভেঞ্চার ডেট, ক্লাস্টার ফান্ড ও ক্রাউডফান্ডিংয়ের মতো বিকল্প অর্থায়ন ব্যবস্থার জন্য এফবিসিসিআই সরকারকে সুপারিশ দিতে পারে। এসএমই বোর্ডের মাধ্যমে ছোট কোম্পানিগুলোর পুঁজিবাজারে প্রবেশ আরও সহজ করা দরকার।

৩. চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও দক্ষতা উন্নয়ন: বর্তমান যুগে ডিজিটাল দক্ষতা ছাড়া আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা অসম্ভব। এফবিসিসিআই আঞ্চলিক পর্যায়ে মেন্টরশিপ ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রোগ্রাম চালু করে তরুণ উদ্যোক্তাদের সহায়তা করতে পারে।

৪. রপ্তানি বহুমুখীকরণ: তৈরি পোশাক খাতের ওপর একক নির্ভরতা কমাতে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, এগ্রো-প্রসেসিং ও আইটি সার্ভিসের মতো খাতগুলোতে এসএমই উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

উপসংহার এসএমই ও স্টার্টআপ বিপ্লব কেবল একটি স্লোগান নয়, এটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের মূল চাবিকাঠি। সুশাসন নিশ্চিত করা এবং ব্যবসা নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করার মাধ্যমে একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এফবিসিসিআই যদি গবেষণা ও নীতিগত নেতৃত্বে সক্রিয় হয়, তবে ছোট ঘর বা ল্যাপটপে গড়ে ওঠা তরুণদের স্বপ্নগুলোই হবে আগামীর উন্নত বাংলাদেশের ভিত্তি।

Tags: bangladesh economy startup entrepreneurship fbcci sme growth-engine digital-skills