• আন্তর্জাতিক
  • মেহরাবাদের রানওয়েতে ইসরায়েলি তাণ্ডব: ১৬টি ইরানি যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি আইডিএফ-এর

মেহরাবাদের রানওয়েতে ইসরায়েলি তাণ্ডব: ১৬টি ইরানি যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি আইডিএফ-এর

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
মেহরাবাদের রানওয়েতে ইসরায়েলি তাণ্ডব: ১৬টি ইরানি যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি আইডিএফ-এর

উপ-শিরোনাম: ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’-এর আওতায় আইআরজিসি-র কুদস ফোর্সের কৌশলগত শক্তিকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি; মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে সংঘাতের নতুন সমীকরণ।

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন বারুদের গন্ধে ভারী। সংঘাতের অষ্টম দিনে ইরানের বিমানবাহিনীর ওপর স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ আঘাত হানার দাবি করেছে ইসরায়েল। দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) এক বিশেষ বিবৃতিতে জানিয়েছে, তেহরানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মেহরাবাদ বিমানবন্দরে এক ঝটিকা অভিযানে তারা ইরানের অন্তত ১৬টি আধুনিক যুদ্ধবিমান পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে। এই বিমানগুলো ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর অভিজাত শাখা ‘কুদস ফোর্স’-এর মালিকানাধীন ছিল বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

মেহরাবাদের বুকে আইএএফ-এর ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ বিবৃতি অনুযায়ী, শনিবার দিবাগত গভীর রাতে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী (IAF) তেহরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে এই ‘Precision Strike’ বা নিখুঁত হামলা পরিচালনা করে। ইসরায়েলের দাবি, এটি কেবল একটি বিমান হামলা ছিল না, বরং ইরানের আকাশপথের সক্ষমতা পঙ্গু করে দেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত মিশন। আইডিএফ-এর মুখপাত্রের মতে, ধ্বংস হওয়া বিমানগুলো কুদস ফোর্সের বিশেষ সামরিক অপারেশন এবং অস্ত্র পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হতো। তবে তেহরান বা আইআরজিসি-র পক্ষ থেকে এই ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া (Official Response) পাওয়া যায়নি।

কুদস ফোর্সের রসদ সরবরাহের মেরুদণ্ডে আঘাত সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, মেহরাবাদ বিমানবন্দরটি ইরানের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর (Strategically Sensitive)। নিয়মিত যাত্রীবাহী বিমান চলাচলের চেয়ে এটি কুদস ফোর্সের লজিস্টিক সাপোর্ট বা রসদ সরবরাহের ‘Hub’ হিসেবেই বেশি পরিচিত। এই বিমানবন্দর ব্যবহার করেই লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ফিলিস্তিনের হামাসসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে উন্নত মানের মিসাইল, ড্রোন ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করে আসছিল কুদস ব্রিগেড। ফলে ১৬টি যুদ্ধবিমান ধ্বংসের এই খবর সত্যি হলে, তা ইরানের আঞ্চলিক সামরিক প্রক্সি নেটওয়ার্কের ওপর এক বিশাল আঘাত হিসেবে গণ্য হবে।

প্রেক্ষাপট: ব্যর্থ পরমাণু সংলাপ থেকে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান এই ভয়াবহ যুদ্ধাবস্থার সূত্রপাত ঘটেছিল গত ফেব্রুয়ারি মাসে। ইরানের পরমাণু প্রকল্প (Nuclear Project) নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ২১ দিন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে এক ম্যারাথন সংলাপ চলে। তবে কোনো কার্যকর সমঝোতায় পৌঁছাতে না পেরে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংলাপটি ভেস্তে যায়।

এর পরপরই ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ওপর ‘Operation Epic Fury’ নামে বড় মাপের সামরিক অভিযান শুরু করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের এই সমর কৌশলের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে একই দিন থেকে ইসরায়েলও ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে তাদের নিজস্ব অভিযান ‘Operation Roaring Lion’ শুরু করে।

বিভক্ত কৌশলে এগোচ্ছে মিত্রবাহিনী যুদ্ধের গত আট দিনের চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একটি ‘Divided Strategy’ বা বিভক্ত কৌশলে কাজ করছে। মার্কিন নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনী মূলত ইরানের নৌ-শক্তির ওপর মনোযোগ দিয়েছে, যার ফলে ইতোমধ্যে ইরানের বেশ কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিন ধ্বংস হয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি বাহিনী তাদের পূর্ণ শক্তি নিয়োগ করেছে ইরানের বিমানবাহিনী ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Air Defense System) ধ্বংসের ওপর।

আন্তর্জাতিক কূটনীতিবিদরা আশঙ্কা করছেন, মেহরাবাদ বিমানবন্দরে এই হামলার পর ইরানও পাল্টা কোনো বিধ্বংসী পদক্ষেপ নিতে পারে। এর ফলে হরমুজ প্রণালি থেকে শুরু করে গোটা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা এক নজিরবিহীন সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে।

Tags: middle east israel air force iran war mehrabad airport idf strike irgc jets quds force operation roaring epic fury