• আন্তর্জাতিক
  • শিরোনাম: তেহরানের দাবি বনাম ওয়াশিংটনের হুংকার: মার্কিন সেনা আটক ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে ঘনীভূত রহস্য

শিরোনাম: তেহরানের দাবি বনাম ওয়াশিংটনের হুংকার: মার্কিন সেনা আটক ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে ঘনীভূত রহস্য

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
শিরোনাম: তেহরানের দাবি বনাম ওয়াশিংটনের হুংকার: মার্কিন সেনা আটক ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে ঘনীভূত রহস্য

উপ-শিরোনাম: ইরানের দাবিকে ‘প্রতারণা ও মিথ্যাচার’ বলে উড়িয়ে দিল মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড; সংঘাতের আবহে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের নতুন মোড়।

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্রে উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে নতুন এক বির্তকের সূত্রপাত হয়েছে। নিজেদের ভূখণ্ডে বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনাকে আটক করার চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে ইরান। তবে তেহরানের এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়ে একে ‘পরিকল্পিত মিথ্যাচার’ হিসেবে অভিহিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন ও তেহরানের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে ওই অঞ্চলে চলমান সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

তেহরানের দাবি ও লারিজানির বক্তব্য ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রভাবশালী মহাসচিব আলি লারিজানি এক বিবৃতিতে জানান, গত এক সপ্তাহ আগে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনাকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশ সময় রোববার প্রদত্ত ওই বিবৃতিতে লারিজানি আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও ঠিক কতজন সেনাকে বন্দি করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ করেননি। এমনকি ঠিক কোন এলাকা থেকে বা কোন পরিস্থিতিতে তাদের আটক করা হয়েছে, সে বিষয়েও তিনি কৌশলগত নীরবতা বজায় রেখেছেন। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই তথ্যের অস্পষ্টতা একটি পরিকল্পিত ‘Psychological Operation’ বা মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ‘প্রতারণা’র অভিযোগ ইরানের এই দাবি প্রকাশ্যে আসার পরপরই কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) থেকে জারি করা এক বিশেষ বিবৃতিতে ইরানের দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সেন্ট্রাল কমান্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়, “মার্কিন সেনা আটকের যে দাবি ইরান সরকার করেছে, তা তাদের ধারাবাহিক মিথ্যাচার ও বৈশ্বিক জনমতকে বিভ্রান্ত করার একটি অপচেষ্টা মাত্র। এটি তেহরানের চিরাচরিত প্রতারণার আরেকটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ।” পেন্টাগন সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, তাদের সমস্ত সদস্যের হিসাব যথাযথ রয়েছে এবং কোনো সেনার নিখোঁজ হওয়ার তথ্য তাদের কাছে নেই।

রণক্ষেত্রের বাস্তবতা ও স্থল অভিযানের ধোঁয়াশা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, ইরানি ভূখণ্ডে মার্কিন সেনাদের কোনো বৃহৎ আকারের স্থল অভিযান বা ‘Ground Assault’ চালানোর সুনির্দিষ্ট প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। মূলত বিমান হামলা ও দূরপাল্লার প্রযুক্তির মাধ্যমেই সংঘাত সীমাবদ্ধ ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমতাবস্থায় ইরানের অভ্যন্তরে মার্কিন সেনা আটক হওয়ার বিষয়টি সামরিক কৌশলবিদদের কাছে বড় ধরনের বিস্ময় হিসেবে দেখা দিয়েছে। যদি লারিজানির দাবি সত্য হয়, তবে এটি যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে; আর যদি এটি মিথ্যা হয়, তবে তা বৈশ্বিক কূটনীতিতে ইরানের বিশ্বাসযোগ্যতাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে।

তথ্যযুদ্ধের নতুন ফ্রন্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে কেবল অস্ত্র নয়, ‘Information Warfare’ বা তথ্যযুদ্ধ একটি বিশাল ভূমিকা পালন করে। মার্কিন সেনার মতো হাই-প্রোফাইল বন্দিদের বিষয়টি জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং প্রতিপক্ষের মনোবল ভাঙার জন্য একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। ওয়াশিংটন মনে করছে, ইরান এই ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমর্থন জোরালো করতে এবং আন্তর্জাতিক মহলে যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে ফেলতে চাইছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বরাজনীতির নজর এখন মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটের দিকে। তেহরান যদি তাদের দাবির সপক্ষে কোনো ভিডিও বা ছবি প্রকাশ করতে না পারে, তবে সেন্ট্রাল কমান্ডের ‘মিথ্যাচার’ এর অভিযোগই আন্তর্জাতিক মহলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

Tags: middle east iran defense news war update military tension geopolitical crisis ali larijani us army central command pentagon response