দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ এবং গণ-আন্দোলনের মুখে অবশেষে পতন হলো সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের। গত কয়েকদিনের ঝোড়ো অভিযানে একের পর এক শহর দখলের পর আজ রাজধানী দামেস্কে প্রবেশ করে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো।
দামেস্কের নিয়ন্ত্রণ ও আসাদের পলায়ন
সূত্রের খবর অনুযায়ী, বিদ্রোহীরা দামেস্কের কেন্দ্রস্থলে পৌঁছানোর আগেই বাশার আল-আসাদ একটি বিশেষ বিমানে করে দেশ ত্যাগ করেন। বর্তমানে তিনি কোথায় অবস্থান করছেন তা নিশ্চিত হওয়া না গেলেও, ধারণা করা হচ্ছে তিনি তার দীর্ঘদিনের মিত্র দেশ রাশিয়ায় আশ্রয় নিয়েছেন। আসাদের পলায়নের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই দামেস্কের রাস্তায় সাধারণ মানুষের ঢল নামে এবং তারা উল্লাসে মেতে ওঠে।
বিদ্রোহীদের বিজয় ও নতুন প্রশাসন
হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) এর নেতৃত্বে থাকা বিদ্রোহী জোট জানিয়েছে, তারা এখন সিরিয়ার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তারা দেশের সরকারি ভবন, টেলিভিশন কেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলো দখল করে নিয়েছে। বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, তারা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করবে এবং সিরিয়ার সকল জাতিগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
আসাদ সরকারের পতনের পর বিশ্বজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তুরস্ক এই পরিবর্তনকে সিরিয়ার জনগণের বিজয় হিসেবে অভিহিত করেছে। অন্যদিকে, ইরান এবং রাশিয়া—যারা আসাদ সরকারের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিল—পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছে। জাতিসংঘ সিরিয়ায় শান্তি বজায় রাখার এবং মানবিক বিপর্যয় এড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।
অনিশ্চয়তার মুখে সিরিয়ার ভবিষ্যৎ
দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের পর আসাদের পতন সিরীয়দের জন্য মুক্তির আনন্দ বয়ে আনলেও সামনে রয়েছে বিশাল চ্যালেঞ্জ। বিধ্বস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠন, বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে সমন্বয় এবং একটি স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা এখন নতুন নেতৃত্বের প্রধান লক্ষ্য হবে।