মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন ড্রোনের দখলে। যুদ্ধের তীব্রতা বাড়িয়ে এবার কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং প্রতিবেশী দেশ সৌদি আরবের ওপর বড় মাপের ‘Drone Strike’ পরিচালনা করেছে ইরান। রোববার (৮ মার্চ) ভোর থেকে শুরু হওয়া এই ধারাবাহিক আক্রমণে ওই অঞ্চলের ‘Energy Infrastructure’ বা জ্বালানি অবকাঠামো বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়েছে।
কুয়েত বিমানবন্দরে জ্বালানি ট্যাংকে আঘাত কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক জরুরি বিবৃতিতে জানিয়েছে, রোববার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালায় ইরান। কুয়েতি কর্মকর্তাদের মতে, এই আক্রমণের মূল লক্ষ্য ছিল বিমানবন্দরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ট্যাংকগুলো।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমাদের রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করে এই ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। বিমানবন্দরের একটি জ্বালানি ট্যাংকে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে তেহরানের ড্রোন।” তবে এই হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্যবস্তু করায় ওই অঞ্চলে বেসামরিক বিমান চলাচল বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়েছে।
সৌদি আরবের আকাশে ড্রোনের বৃষ্টি: তৎপর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কুয়েতে হামলার সমান্তরালে সৌদি আরবের ওপরও একের পর এক ড্রোন হানা দিচ্ছে ইরান। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রিয়াদের আকাশসীমা সুরক্ষায় তাদের ‘Air Defense System’ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।
রোববার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে দেওয়া এক তথ্যে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, গত এক ঘণ্টায় রিয়াদের পূর্ব দিকে মোট ৭টি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত (Intercept) করা হয়েছে। এর মাত্র এক ঘণ্টা আগেই তারা আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করা আরও ৮টি ড্রোন ধ্বংস করার দাবি করেছিল। অর্থাৎ, মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে রিয়াদের আকাশে মোট ১৫টি ঘাতক ড্রোন ধ্বংস করেছে সৌদি সামরিক বাহিনী।
জ্বালানি নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক সংকট বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কুয়েত ও সৌদিতে ইরানের এই আক্রমণের ধরন স্পষ্টতই ‘Energy Security’ বা জ্বালানি নিরাপত্তাকে অস্থিতিশীল করার একটি কৌশল। কুয়েত বিমানবন্দরের জ্বালানি ট্যাংক এবং সৌদিতে রিয়াদের কাছাকাছি হামলা করার অর্থ হলো বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহকারী অঞ্চলকে চাপে ফেলা।
টাইমস অব ইসরায়েল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ‘Operation Epic Fury’ এবং ‘Operation Roaring Lion’-এর পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান এখন তাদের প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, যারা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে পশ্চিমাদের সমর্থন দিচ্ছে বলে তেহরান মনে করে।
উত্তেজনার তুঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য কুয়েত ও সৌদি আরবের ওপর এই বহুমুখী আক্রমণের ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধের দাবানল আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে এই ‘Precision Attack’ বা নিখুঁত হামলাগুলো বৈশ্বিক বিমান পরিবহন ও তেলের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে রিয়াদ ও কুয়েত সিটি তাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা (Red Alert) জারি করেছে।