বসন্তের বিদায়লগ্নে রাজধানী ঢাকার প্রকৃতিতে রোদের প্রখরতার চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে গুমোট ও ভ্যাপসা গরমের অস্বস্তি। আজ রোববার (৮ মার্চ) সকাল থেকেই ঢাকার আকাশে মেঘের আনাগোনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দিনভর আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং সেই সঙ্গে বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে জনজীবনে কিছুটা অস্বস্তিকর ভ্যাপসা গরম অনুভূত হতে পারে।
ঢাকার তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার হালচাল বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে আজ সকাল ৭টায় প্রকাশিত এক বিশেষ ‘Weather Update’-এ জানানো হয়েছে, পরবর্তী ৬ ঘণ্টায় ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে আবহাওয়ার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো ‘Humidity’ বা বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা। আজ সকালে ঢাকায় আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৮১ শতাংশ, যা স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বেশি। উচ্চ আর্দ্রতার কারণে ঘাম শুকোতে সময় লাগে, ফলে প্রকৃত তাপমাত্রার চেয়েও বেশি গরম অনুভূত হয়।
আজ ভোরে ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২১ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে গতকাল শনিবার ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়াবিদদের মতে, তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রির ঘরে থাকলেও মেঘলা আকাশ ও উচ্চ আর্দ্রতার কারণে রাজধানীর বাসিন্দারা ‘Real Feel’ বা অনুভূত তাপমাত্রায় বেশি গরম অনুভব করবেন।
বাতাসের গতি ও আকাশ পরিস্থিতি পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ দুপুর পর্যন্ত ঢাকার আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও সামগ্রিকভাবে আবহাওয়া ‘Dry Weather’ বা শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা বেশি। এ সময় পশ্চিম অথবা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। বাতাসের এই ধীরগতি গরমের তীব্রতাকে খুব একটা কমাতে পারবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে কোনো বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়নি। আজ সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় হবে ভোর ৬টা ১৪ মিনিটে।
দুই বিভাগে বৃষ্টির পূর্বাভাস রাজধানীতে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকলেও দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। গতকাল রাতে আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে জানানো হয়েছে, আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দুই-এক জায়গায় হালকা বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যান্য অঞ্চলে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে।
প্রয়োজনীয় সতর্কতা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভ্যাপসা গরমের এই সময়ে শরীরে পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে বাইরে বের হওয়ার সময় পর্যাপ্ত পানি সাথে রাখা এবং হালকা সুতির পোশাক পরিধান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যারা দীর্ঘক্ষণ রোদে বা গুমোট পরিবেশে কাজ করেন, তাদের জন্য হিট ক্র্যাম্প বা হিট স্ট্রেস এড়াতে নিয়মিত বিশ্রাম নেওয়া জরুরি।