• দেশজুড়ে
  • বেতন-বোনাসের দাবিতে রণক্ষেত্র ভালুকা: পুলিশের লাঠিচার্জ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় ৩ ঘণ্টা পর সচল মহাসড়ক

বেতন-বোনাসের দাবিতে রণক্ষেত্র ভালুকা: পুলিশের লাঠিচার্জ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় ৩ ঘণ্টা পর সচল মহাসড়ক

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
বেতন-বোনাসের দাবিতে রণক্ষেত্র ভালুকা: পুলিশের লাঠিচার্জ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় ৩ ঘণ্টা পর সচল মহাসড়ক

শেফার্ড গ্রুপের শ্রমিকদের অবরোধে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট; রোজার দিনে অ্যাম্বুলেন্স ও সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তি।

ময়মনসিংহের ভালুকায় বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাসের দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক। বুধবার (১১ মার্চ) টানা ৩ ঘণ্টা অবরোধের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ‘Lathi-charge’ এবং কঠোর হস্তক্ষেপে দুপুর আড়াইটার দিকে এই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কটিতে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। আন্দোলনরত শ্রমিকদের হটাতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

বিক্ষোভের সূত্রপাত ও রণক্ষেত্র ভালুকা ঘটনার সূত্রপাত বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে। ভালুকার ‘Shepherd Group (Jeans) Ltd’ কারখানার কয়েক হাজার শ্রমিক বকেয়া পাওনার দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ (Road Blockade) করেন। শ্রমিকদের অভিযোগ, গত ফেব্রুয়ারি মাসের বকেয়া বেতন, আসন্ন ঈদ বোনাস এবং ছুটির টাকা ১০ মার্চের মধ্যে পরিশোধ করার কথা থাকলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ তা পূরণ করেনি। বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কারণে ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা রাজপথে নামতে বাধ্য হন।

পুলিশ-শ্রমিক ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া অবরোধের ফলে মহাসড়কের দুই পাশে কয়েক হাজার যানবাহন আটকা পড়লে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রথমে শ্রমিকদের বুঝিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু শ্রমিকরা দাবিতে অনড় থাকলে দুপুর আড়াইটার দিকে পুলিশ ও সেনাবাহিনী কঠোর অবস্থানে যায়। শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করলে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া। এসময় উত্তেজিত শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। বেশ কিছু সময় ধরে চলা এই সংঘর্ষের পর শ্রমিকরা পিছু হটলে মহাসড়কটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

৫০ কিলোমিটার যানজট ও মানবিক বিপর্যয় পবিত্র রমজান মাসে তীব্র তাপদাহের মধ্যে এই অবরোধের ফলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের দুই পাশে প্রায় ৫০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে স্মরণকালের ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে কয়েক হাজার সাধারণ যাত্রী, মালবাহী ট্রাক এবং জরুরি সেবার যানবাহন আটকা পড়ে। বিশেষ করে ‘Ambulance’-এ থাকা সংকটাপন্ন রোগী, বৃদ্ধ ও শিশুদের দুর্ভোগ ছিল বর্ণনাতীত। অনেক রোগীকে দীর্ঘক্ষণ যানজটে আটকা পড়ে থাকতে দেখা যায়, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করে।

প্রশাসনের বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ প্রতিশ্রুতি পরিস্থিতি সম্পর্কে ‘Industrial Police-5’-এর পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খান বলেন, “দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থেকে রোগী ও শিশুরা চরম কষ্ট পাচ্ছিলেন। জনস্বার্থ রক্ষায় এবং মানবিক দিক বিবেচনা করে আমরা শ্রমিকদের বারবার অনুরোধ করেছি। কিন্তু তারা রাস্তা না ছাড়লে আমরা কঠোর হতে বাধ্য হই। বর্তমানে মালিকপক্ষ আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে সকল বকেয়া পরিশোধের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস বা ‘Deadline’ দিয়েছে।”

কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যান্ত্রিক বা আর্থিক কোনো সমস্যার কারণে বেতন দিতে দেরি হলেও আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে সকল শ্রমিকের পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া হবে। তবে শ্রমিকরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ে পাওনা না পেলে তারা আবারও রাজপথে নামতে পিছপা হবেন না। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হলেও যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

Tags: bhaluka news garment workers