ময়মনসিংহের ত্রিশালে মাঝপথে ‘Technical Glitch’-এর কবলে পড়ে যাত্রীবাহী আন্তঃনগর ‘তিস্তা এক্সপ্রেস’। ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ায় মাঝপথেই থমকে যায় চাকা, যার ফলে দীর্ঘ ২ ঘণ্টা চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় সাধারণ যাত্রীদের। বুধবার (১১ মার্চ) বেলা পৌনে ১টার দিকে বিকল্প ইঞ্জিনের সহায়তায় ট্রেনটি পুনরায় তার নির্ধারিত গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
মাঝপথে যান্ত্রিক বিভ্রাট ও উদ্ধার তৎপরতা রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা দেওয়ানগঞ্জগামী তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনটি সকাল পৌনে ১১টার দিকে ত্রিশালের ফাতেমানগর স্টেশনের আউটার সিগন্যাল এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ এর ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। ট্রেনের ‘Loco Master’ (চালক) ও সংশ্লিষ্ট কর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে ত্রুটি সারানোর চেষ্টা করলেও তাতে সফল হননি। ট্রেনটি লাইনের ওপর আটকা পড়ায় ওই রুটে শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়।
পরবর্তীতে উদ্ধার তৎপরতার অংশ হিসেবে ঢাকাগামী ‘হাওর এক্সপ্রেস’ ট্রেনের ইঞ্জিনের সাহায্য নেওয়া হয়। হাওর এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন দিয়ে বিকল হওয়া ট্রেনটিকে টেনে ফাতেমানগর স্টেশনে নিয়ে আসা হয়। এতে সাময়িকভাবে লাইনের বাধা দূর হলেও তিস্তা এক্সপ্রেসের যাত্রীদের অপেক্ষা আরও দীর্ঘায়িত হয়।
বিকল্প ইঞ্জিনে গন্তব্যে যাত্রা ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) গোলাম কিবরিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত ময়মনসিংহ থেকে একটি বিকল্প ইঞ্জিন (Rescue Engine) পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। সেই ইঞ্জিনটি দুপুরের দিকে ফাতেমানগর স্টেশনে পৌঁছালে বিকল হওয়া ইঞ্জিনসহ পুরো ট্রেনটিকে টেনে ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনে নিয়ে আসা হয়। এরপর সেখান থেকে ট্রেনটি পুনরায় গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে।
তপ্ত রোদে যাত্রীদের সীমাহীন দুর্ভোগ ইঞ্জিন বিকল হওয়ার কারণে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় ২ ঘণ্টা দেরিতে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় ট্রেনটি। কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই মাঝপথে ট্রেন থেমে যাওয়ায় নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা চরম বিপাকে পড়েন। বিশেষ করে গরম ও যান্ত্রিক অনিশ্চয়তার কারণে ট্রেনের ভেতরে থাকা যাত্রীদের মধ্যে অস্থিরতা দেখা দেয়। তবে ২ ঘণ্টা পর চাকা ঘুরলে স্বস্তি ফিরে আসে ট্রেনটিতে থাকা শত শত যাত্রীর মনে।
রেলওয়ে কর্মকর্তাদের মতে, যান্ত্রিক ত্রুটি যেকোনো সময় হতে পারে, তবে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ‘Emergency Response’ আরও দ্রুত করার চেষ্টা চলছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের যান্ত্রিক বিভ্রাট এড়াতে নিয়মিত ‘Maintenance’ বা রক্ষণাবেক্ষণের ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।