বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (FBI)। বুধবার (১১ মার্চ) রাজধানীর পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সুহেল দাউদ-এর নেতৃত্বে এফবিআই-এর চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।
সাইবার নিরাপত্তা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রস্তাব অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই সৌজন্য সাক্ষাৎকারে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এফবিআই প্রতিনিধিদলের প্রধান সুহেল দাউদ বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন এবং আধুনিক অপরাধ দমনে প্রযুক্তিগত সহায়তার প্রস্তাব দেন। বিশেষ করে ক্রমবর্ধমান Cyber Security ঝুঁকি মোকাবিলা, একটি কার্যকর Cyber Complaint Center স্থাপন এবং Social Media Monitoring-এর মাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার রোধে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করে এফবিআই।
এ ছাড়া আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে Financial Crime বা আর্থিক অপরাধ মোকাবিলা এবং জটিল অপরাধের রহস্য উন্মোচনে প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত বা Technology-driven Investigation প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ পুলিশকে সর্বাধুনিক প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।
বিশেষায়িত ইউনিটের দক্ষতা বৃদ্ধিতে জোর আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির এফবিআই-এর এই আগ্রহকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বর্তমান বিশ্ববাস্তবতায় অপরাধের ধরন দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিটগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি অপরিহার্য। তিনি এফবিআই-এর সঙ্গে বাংলাদেশ পুলিশের পিবিআই (PBI), সিআইডি (CID), অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (ATU) এবং সিটিটিসি (CTTC)-এর মতো বিশেষায়িত ইউনিটগুলোর কাজের সমন্বয় ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আইজিপি আশা প্রকাশ করেন যে, এফবিআই-এর কারিগরি দক্ষতা ও তথ্য আদান-প্রদান প্রক্রিয়া বাংলাদেশ পুলিশের তদন্ত সক্ষমতাকে বিশ্বমানে উন্নীত করতে সহায়ক হবে।
অংশীদারিত্বের নতুন দিগন্ত সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে অপরাধ দমন ও অপরাধী শনাক্তকরণে আরও দৃঢ় ও ফলপ্রসূ অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বৈঠকে আইজিপি ও এফবিআই প্রতিনিধিদল ছাড়াও বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার এই উদ্যোগ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সাইবার জগতের সুরক্ষায় এক নতুন মাত্রা যোগ করবে। বিশেষ করে বড় ধরনের আর্থিক জালিয়াতি এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে দুই দেশের এই যৌথ অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।