• জাতীয়
  • রহস্যময় চিঠি ও ‘ভুল বোঝাবুঝি’: জামায়াত আমিরের উপদেষ্টার পদায়ন নিয়ে তুঙ্গে বিতর্ক

রহস্যময় চিঠি ও ‘ভুল বোঝাবুঝি’: জামায়াত আমিরের উপদেষ্টার পদায়ন নিয়ে তুঙ্গে বিতর্ক

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
রহস্যময় চিঠি ও ‘ভুল বোঝাবুঝি’: জামায়াত আমিরের উপদেষ্টার পদায়ন নিয়ে তুঙ্গে বিতর্ক

বিরোধীদলীয় নেতার স্বাক্ষর বনাম জামায়াতের অস্বীকার; অধ্যাপক মাহমুদুল হাসানের নিয়োগ নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কড়া বিবৃতি।

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসানকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পদায়ন করার একটি প্রস্তাব ঘিরে নজিরবিহীন ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। উক্ত পদায়নের সুপারিশ সংবলিত একটি চিঠি নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে পরস্পরবিরোধী অবস্থান রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

জামায়াতে ইসলামীর দাবি অনুযায়ী, এই চিঠির বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতা অর্থাৎ ড. শফিকুর রহমান কোনোভাবেই অবগত নন। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট জানিয়েছে, চিঠিতে স্বয়ং বিরোধীদলীয় নেতার স্বাক্ষর রয়েছে এবং প্রয়োজনে এর পূর্ণ পাঠ জনসমক্ষে প্রকাশ করতেও তারা প্রস্তুত।

মন্ত্রণালয়ের অবস্থান: চিঠির সূত্রপাত ও পদ্ধতি বুধবার (১১ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিশেষ বিবৃতিতে এই বিতর্কের অবসান ঘটানোর চেষ্টা করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২২ ফেব্রুয়ারি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান নিজেই বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে একটি চিঠি ‘Electronic Media’ বা ডিজিটাল মাধ্যমে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নিকট প্রেরণ করেন। কেবল ডিজিটাল মাধ্যমেই নয়, পরবর্তীতে তিনি সশরীরে উপস্থিত হয়ে একই চিঠির হার্ডকপি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানানো হয়েছে, চিঠিটি জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার নিজস্ব ‘Official Letterhead’ বা প্যাডে লেখা ছিল। এতে ড. মাহমুদুল হাসানকে বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ‘Advisor’ অথবা ‘Minister Rank’ (মন্ত্রী পদমর্যাদায়) নিয়োগের জন্য জোরালো সুপারিশ করা হয়।

সুপারিশ বনাম অস্বীকার: যেখানে জটিলতা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, চিঠিতে ড. হাসানের দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও প্রজ্ঞা বা ‘Wisdom’-এর ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে। দেশের সামগ্রিক ‘Foreign Policy’ বা পররাষ্ট্রনীতিকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করার লক্ষ্যে তাঁকে উক্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়। চিঠির নিচে স্পষ্টাক্ষরে কেবল বিরোধীদলীয় নেতার স্বাক্ষর বিদ্যমান।

মন্ত্রণালয় সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, যদি বিরোধীদলীয় নেতা লিখিতভাবে সম্মতি দেন, তবে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তারা পুরো চিঠিটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করতে দ্বিধা করবে না।

ফোনালাপের রহস্য ও মন্ত্রণালয়ের প্রত্যাখ্যান সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, জামায়াতের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে জানানো হয়েছে যে—উক্ত চিঠির বিষয়ে ‘আমিরে জামায়াত’ অবগত ছিলেন না।

তবে মন্ত্রণালয় এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, এ ধরনের কোনো ফোনালাপ বা যোগাযোগ কোনো পক্ষ থেকেই