টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাবর আজম বাহিনীর হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর পাকিস্তান ক্রিকেটে বইছে ঝড়ের হাওয়া। সম্প্রতি দেশটির সংবাদমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, বিশ্বকাপে ব্যর্থতার দায়ে দলের প্রত্যেক খেলোয়াড়কে ৫০ লাখ পাকিস্তানি রুপি করে জরিমানা করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB)। এই খবরকে কেন্দ্র করে ক্রিকেট বিশ্বে তীব্র তোলপাড় শুরু হয়, এমনকি বোর্ডের এমন ‘কঠোর’ নীতির সমালোচনা করেন পাকিস্তানের সাবেক তারকারাও। তবে এবার সেই বিতর্কিত ইস্যু নিয়ে মুখ খুলে প্রকৃত সত্য সামনে এনেছে পিসিবি কর্তৃপক্ষ।
গুঞ্জনের সূত্রপাত ও সাবেকদের ক্ষোভ
সবশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ‘Super Eight’ পর্ব থেকে পাকিস্তানের বিদায় নেওয়ার পর গুঞ্জন ওঠে যে, বোর্ড চরম অসন্তুষ্ট। সংবাদমাধ্যমের দাবি ছিল, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে হারের পরপরই খেলোয়াড়দের জানানো হয়েছিল—ভালো খেললে যেমন বোনাস মেলে, খারাপ পারফরম্যান্সের জন্য গুনতে হবে জরিমানা।
এই খবর শোনার পর পাকিস্তানের কিংবদন্তি ক্রিকেটার শহীদ আফ্রিদি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত সংকীর্ণ মানসিকতার পরিচয়। ৫০ লাখ রুপি দিয়ে বোর্ড কী করবে? এটি কোনোভাবেই পেশাদার ক্রিকেটের অংশ হতে পারে না।” আফ্রিদির এই মন্তব্য আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়লে পিসিবিকে শেষ পর্যন্ত জনসমক্ষে ব্যাখ্যা দিতে হয়েছে।
পিসিবির পক্ষ থেকে স্পষ্টীকরণ: জরিমানা নয়, বরং ‘নতুন ফর্মুলা’
শনিবার (১৪ মার্চ) সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে পিসিবির মুখপাত্র আমির মীর জানান, খেলোয়াড়দের জরিমানা করার খবরটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সংবাদ সংস্থা ‘PTI’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “এখনও পর্যন্ত কোনো খেলোয়াড়কে জরিমানা করা হয়নি। তবে হ্যাঁ, বোর্ড খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে একটি বিশেষ ‘Financial Formula’ তৈরির কথা গুরুত্বের সাথে ভাবছে।”
আমির মীর আরও যোগ করেন, “বোর্ড চায় পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে একটি ‘Incentive vs Penalty’ ব্যবস্থা চালু করতে। ভালো পারফর্ম করলে তারা যেমন ‘Bonus’ পান, তেমনি ধারাবাহিকভাবে খারাপ খেললে বেতন কাঠামোতে তার প্রভাব পড়ার একটি সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।”
এক নজরে পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের বর্তমান আয়
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ‘Express Tribune’-এর তথ্য অনুযায়ী, পিসিবির বর্তমান চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়দের আয়ের অংক বেশ বড়। জরিমানার গুজবটি কেন আলোচনার কেন্দ্রে এসেছিল, তা বোঝা যায় তাদের ‘Salary Structure’ লক্ষ্য করলে:
‘A’ ক্যাটাগরি: মাসিক বেতন ৪৫ লাখ রুপি এবং আইসিসির রাজস্বের অংশ হিসেবে অতিরিক্ত ২০.৭০ লাখ রুপি।
‘B’ ক্যাটাগরি: মাসিক বেতন ৩০ লাখ রুপি এবং আইসিসি থেকে ১৫.৫২ লাখ রুপি।
‘C’ ক্যাটাগরি: মাসিক ১০ লাখ রুপি বেতন ও আইসিসি অংশ ১০.৩৫ লাখ রুপি।
‘D’ ক্যাটাগরি: মাসিক ৭.৫০ লাখ রুপি বেতন এবং আইসিসি থেকে ৫.১৭ লাখ রুপি।
পেশাদারিত্বের চ্যালেঞ্জে পাকিস্তান ক্রিকেট
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, পিসিবি এই মুহূর্তে খেলোয়াড়দের ওপর মানসিক চাপ কমানোর চেয়ে মাঠে ফল বের করে আনতেই বেশি আগ্রহী। যদিও এই দফায় জরিমানার হাত থেকে রেহাই পেয়েছেন বাবর-রিজওয়ানরা, তবে আসন্ন সিরিজগুলোতে ভালো পারফর্ম করতে না পারলে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। পিসিবির এই ‘নতুন ফর্মুলা’ বিশ্ব ক্রিকেটে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।