খেলার মাঠের রূপকথা সবসময় পূর্ণতা পায় না। উসমান খাজা চেয়েছিলেন তার বর্ণাঢ্য ‘First-Class Career’-এর ইতি টানবেন কুইন্সল্যান্ডের হয়ে আরেকটি ট্রফি উঁচিয়ে ধরে। কিন্তু তাসমানিয়ার ধারালো বোলিং এবং পয়েন্ট টেবিলের জটিল সমীকরণে সেই স্বপ্ন এখন অতীত। বেলেরিভ ওভালের সবুজ ঘাস খাজার বিদায়বেলায় কোনো সুখস্মৃতি উপহার দিতে পারল না; বরং কুইন্সল্যান্ড বুলসের ব্যাটিং বিপর্যয় তাকে ঠেলে দিল এক বিষণ্ণ অবসরের দিকে।
পয়েন্টের গোলকধাঁধায় কুইন্সল্যান্ডের বিদায় ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে তাসমানিয়ার ১৯৯ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসের লিড নেওয়ার সহজ সুযোগ ছিল কুইন্সল্যান্ডের সামনে। কিন্তু তারা অলআউট হয়ে যায় মাত্র ১৭৮ রানে। শেফিল্ড শিল্ডের (Sheffield Shield) নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম ১০০ ওভারে ব্যাটিং এবং বোলিং পারফরম্যান্সের ওপর ‘Bonus Points’ দেওয়া হয়। একই সময়ে অন্য ম্যাচে সাউথ অস্ট্রেলিয়া ৩০৫ রান সংগ্রহ করে এবং ভিক্টোরিয়ার ৫টি উইকেট তুলে নিয়ে নিজেদের অবস্থান মজবুত করে ফেলে। ফলে গাণিতিক হিসেবে কুইন্সল্যান্ড এখন ম্যাচ জিতলেও ফাইনালের দৌড় থেকে ছিটকে গেছে। ৩৯ বছর বয়সী খাজার জন্য এটিই ছিল শিরোপা জেতার শেষ সুযোগ, যা হাতছাড়া হয়ে গেল নিষ্ঠুরভাবে।
মাঠের বাইরে থেকেই শেষ হলো যাত্রা সবচেয়ে নাটকীয় বিষয় হলো, উসমান খাজা তার ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচে দলের সঙ্গে মাঠে থাকতে পারেননি। তার তৃতীয় সন্তানের জন্মের অপেক্ষায় তিনি বর্তমানে ‘Paternity Leave’-এ রয়েছেন। ভেবেছিলেন সতীর্থরা ফাইনালে জায়গা করে নিলে শেষবারের মতো কুইন্সল্যান্ডের জার্সিতে মাঠে নামবেন। কিন্তু দলের এই পরাজয় সেই সম্ভাবনাকে চিরতরে সমাহিত করল। অস্ট্রেলিয়ার এই কিংবদন্তি ওপেনার আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, চলতি মৌসুম শেষেই তিনি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট থেকে ‘Retire’ করবেন।
বোলারদের তোপ ও ব্যাটিং বিপর্যয় রোববার ম্যাচের শুরু থেকেই তাসমানিয়ার বোলারদের তোপের মুখে পড়ে কুইন্সল্যান্ড। জ্যাক ক্লেটন এবং লাচলান হার্নে ৪৯ রানের একটি ছোট জুটি গড়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও লরেন্স নিল-স্মিথের তোপে তা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। দ্রুতই ৭০ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় তারা। তাসমানিয়ার স্পিনার ম্যাট কুহনেম্যান মাত্র ১৪ রান খরচায় ৩টি উইকেট নিয়ে কুইন্সল্যান্ডের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন।
তাসমানিয়ার প্রতিরোধ ও ওয়েদারাল্ডের দৃঢ়তা নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই জাভিয়ের বার্টলেট এবং মাইকেল নেসারের তোপে ১০ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়েছিল তাসমানিয়াও। তবে অভিজ্ঞ ওপেনার জ্যাক ওয়াদারাল্ড ৬২ রানের একটি কার্যকর ইনিংস খেলে বিপর্যয় সামাল দেন। এরপর জর্ডান সিল্ক ১২২ বলে অপরাজিত ৪৯ রানের একটি ধৈর্যশীল ইনিংস খেলে তাসমানিয়াকে লিড এনে দিতে সাহায্য করেন।
উসমান খাজার বিদায়টা মাঠের পারফরম্যান্সে বর্ণহীন হলেও, অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে তার অবদান সবসময় স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তবে শেষবেলায় শিরোপা না পাওয়ার আক্ষেপ হয়তো এই ‘Tech-Savvy’ ও আধুনিক ক্রিকেটের নায়কের মনে আজীবন এক অপূর্ণতা হিসেবেই থেকে যাবে।