মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ অলিখিত ফাইনাল। তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের ভাগ্য নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের আধিপত্য থাকলেও দ্বিতীয় ম্যাচে কামব্যাক করেছিল পাকিস্তান। ফলে ১-১ সমতায় থাকা সিরিজে আজকের লড়াইটি হয়ে দাঁড়িয়েছে মর্যাদার লড়াই। এমন স্নায়ুচাপের ম্যাচে আগে ব্যাটিং করে ২৯০ রানের বড় পুঁজি পাওয়ার পর বল হাতে পাকিস্তানি ব্যাটিং লাইনআপকে রীতিমতো গুঁড়িয়ে দিচ্ছেন বাংলাদেশের পেসাররা।
তানজিদ তামিমের রাজকীয় সেঞ্চুরি ও লড়াকু পুঁজি
সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। ওপেনিং জুটিতেই সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিম ১০৫ রানের এক চমৎকার ‘Solid Foundation’ গড়ে দেন। সাইফ ৩৬ রান করে আউট হলেও একপ্রান্ত আগলে রেখে ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি তুলে নেন তানজিদ তামিম। তাঁর ১০৭ রানের নান্দনিক ইনিংসে ছিল ৭টি ছক্কা ও ৬টি বাউন্ডারির মার। মূলত তাঁর এই ‘Maiden Century’-তে ভর করেই ৫০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৯০ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর সংগ্রহ করে টিম টাইগার্স। মিডল অর্ডারে লিটন দাসের ৪১ ও তাওহীদ হৃদয়ের অপরাজিত ৪৮ রান বাংলাদেশকে তিনশর কাছাকাছি নিয়ে যায়।
তাসকিন-নাহিদের গতির ঝড় ও টপ-অর্ডার বিপর্যয়
২৯১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারেই বাংলাদেশি পেস অ্যাটাকের সামনে মুখ থুবড়ে পড়ে পাকিস্তান। ‘Speedstar’ তাসকিন আহমেদের করা প্রথম ওভারেই ব্যক্তিগত শূন্য রানে প্যাভিলিয়নে ফেরেন শাহিবজাদা ফারহান। সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই টাইগার বোলারদের তোপের মুখে পড়েন মাজ সাদাকাত ও অভিজ্ঞ মোহাম্মদ রিজওয়ান। মাত্র ১৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে সফরকারীরা। মিরপুরের স্লো পিচে তাসকিন ও নাহিদ রানার গতির সাথে খাপ খাওয়াতে হিমশিম খাচ্ছিল পাকিস্তানের ‘Top-Order’ ব্যাটাররা।
নাহিদ রানার এক্সপ্রেস পেস ও মোস্তাফিজের ম্যাজিক
চতুর্থ উইকেটে গাজি ঘোরি ও আব্দুল সামাদ মিলে ৫০ রানের একটি জুটি গড়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিলেন। তবে এই জুটি ভাঙতে খুব বেশি সময় নেননি তরুণ পেস সেনসেশন নাহিদ রানা। তাঁর ‘Express Pace’ এবং সঠিক ‘Line and Length’-এর সামনে গাজি ঘোরি বোল্ড হয়ে ফিরলে ভেঙে যায় ৬৭ রানের প্রতিরোধ। এরপর কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান তাঁর চেনা ছন্দে আঘাত হানেন। আব্দুল সামাদকে তুলে নিলে দলীয় ৮২ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে হারের প্রহর গুনতে শুরু করে পাকিস্তান।
সিরিজ জয়ের দ্বারপ্রান্তে টাইগাররা
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাকিস্তান খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে আছে। ১০০ রানের নিচে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলায় ম্যাচে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ এখন শতভাগ। বল হাতে নাহিদ রানা ও তাসকিন আহমেদ যে আগ্রাসন দেখিয়েছেন, তা আধুনিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের শক্তিশালী ‘Pace Attack’-এরই প্রতিফলন। মিরপুরের গ্যালারি এখন বিজয়ের গর্জনে উত্তাল। যদি শেষ পর্যন্ত বোলাররা এই ধারা বজায় রাখতে পারেন, তবে ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে আরও একটি ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের স্বাদ পাবে বাংলাদেশ।
পাকিস্তানের পক্ষে হারিস রউফ বল হাতে ৩ উইকেট নিলেও তাঁর সেই চেষ্টা ম্লান হতে চলেছে নিজ দলের ব্যাটারদের দায়িত্বজ্ঞানহীন পারফরম্যান্সে। এখন দেখার বিষয়, লোয়ার অর্ডার ব্যাটাররা পাকিস্তানকে কতদূর নিয়ে যেতে পারেন নাকি সময়ের আগেই জয় উৎসব শুরু করে বাংলাদেশ।