বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে সালমান আলী আঘার সেই বিতর্কিত রান আউট এখন টক অব দ্য ক্রিকেট ওয়ার্ল্ড। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে ধারাভাষ্য কক্ষ—সবখানেই চলছে তুমুল বিতর্ক। বিষয়টি নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে সাবেক ক্রিকেটাররা ‘Spirit of Cricket’ বা ক্রিকেটীয় চেতনার দোহাই দিচ্ছেন, তখন সতীর্থ মেহেদী হাসান মিরাজের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন টাইগারদের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাস। লিটনের সাফ কথা, এটি কোনো শৌখিন খেলা নয় যে এখানে উদারতা দেখাতে হবে।
‘এটা চ্যারিটি লিগ নয়’: লিটনের কড়া অবস্থান
ম্যাচ শেষে ব্রডকাস্টারদের দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লিটন দাস অত্যন্ত পেশাদার ও কঠোর মনোভাব প্রকাশ করেন। আউটের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা সমালোচকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “প্রথমত, এখানে কেউ ‘Charity League’ বা দাতব্য লিগ খেলতে আসেনি। এটি একটি হাই-ভোল্টেজ ‘International Match’। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী এটি পরিষ্কার আউট। এখানে স্পোর্টসম্যানশিপ (Sportsmanship) নষ্ট হয়েছে বলে আমি মনে করি না। ব্যক্তিগতভাবে যে কেউ তার মতামত দিতে পারেন, তবে খেলোয়াড় হিসেবে আমাদের কাছে এটি শতভাগ সঠিক আউট ছিল।”
চেতনার দোহাই সালমানের, মিরাজের অনড় আবেদন
অন্যদিকে, সাজঘরে ফিরে গেলেও মাঠের সেই ঘটনার রেশ কাটেনি পাকিস্তানি ব্যাটার সালমান আলী আঘার মন থেকে। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজের ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বলেন, “আমি মনে করি ক্রিকেটে ‘Sportsman Spirit’ থাকা উচিত। মিরাজ যা করেছে তা নিয়মের মধ্যেই ছিল, কিন্তু সেটি ক্রিকেটীয় চেতনার সঙ্গে মানানসই নয়। সে যদি এটাকে সঠিক মনে করে, তবে তাই হোক। তবে আমার জায়গায় অন্য কেউ হলে আমি চেতনার খাতিরে তাকে আউট করতাম না। আমরা আগে কখনো এমন কিছু করিনি এবং ভবিষ্যতেও করব না।”
মাঠে ঠিক কী ঘটেছিল?
ঘটনাটি ঘটেছিল পাকিস্তানের ব্যাটিং ইনিংসের ৩৯তম ওভারে। মিরাজের একটি ডেলিভারি সোজা ব্যাটে খেলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। বলটি মিরাজের পায়ে লেগে কিছুটা দূরে চলে যায়। ক্রিজে থাকা সালমান আলী আঘা সৌজন্যবশত বলটি হাতে তুলে মিরাজকে ফেরত দিতে যান। ঠিক সেই মুহূর্তেই মিরাজ বলটি সালমানের হাত থেকে নিয়ে দ্রুত আন্ডার-আর্ম থ্রোয়ে (Under-arm Throw) স্টাম্প ভেঙে দেন।
সালমান তখন ক্রিজের বাইরে ছিলেন এবং বলটি তখনও ‘Dead Ball’ হয়নি। মিরাজ তাৎক্ষণিক আউটের আবেদন করলে আম্পায়ার টিভি আম্পায়ারের সাহায্য নেন। রিপ্লেতে দেখা যায়, বল স্টাম্পে লাগার সময় সালমান ক্রিজের বাইরে ছিলেন, ফলে তাকে আউটের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।
মাঠে উত্তেজনা ও সাজঘরে সরঞ্জাম আছাড়
আকস্মিক এই আউটে মেজাজ হারান সালমান। আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের পর তিনি মাঠেই নিজের হেলমেট, গ্লাভস ও ব্যাট ছুড়ে মারেন। এমনকি মাঠ ছাড়ার সময় লিটন দাসের সঙ্গে তার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ও হয়। ড্রেসিংরুমে ফেরার পথে বাউন্ডারি লাইনের কাছে আবারও নিজের কিটস মাটিতে আছাড় মেরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই পাকিস্তানি ক্রিকেটার। এই অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের জন্য পরবর্তীতে সালমানকে শাস্তির মুখেও পড়তে হয়েছে।
বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া: নিয়ম বনাম নীতি
এই ঘটনাটি ক্রিকেট বিশ্বকে দুই ভাগে বিভক্ত করে দিয়েছে। মাইকেল ভন বা শোয়েব আখতারের মতো সাবেক ক্রিকেটাররা একে ‘Cheap’ বা সস্তা কৌশল হিসেবে অভিহিত করলেও, অনেক বিশেষজ্ঞই মিরাজের বুদ্ধিমত্তার প্রশংসা করছেন। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিটি রান এবং উইকেটের গুরুত্ব অপরিসীম, তাই নিয়মের মধ্যে থেকে সুযোগ নেওয়া মোটেও অন্যায্য নয়।