• আন্তর্জাতিক
  • তেহরানের আকাশে রণদামামা: ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলা প্রতিহতের দাবি ইরানের

তেহরানের আকাশে রণদামামা: ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলা প্রতিহতের দাবি ইরানের

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
তেহরানের আকাশে রণদামামা: ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলা প্রতিহতের দাবি ইরানের

সোমবার ভোরে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ল ইসরায়েলি বাহিনী; আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তৎপরতায় প্রকম্পিত ইরান।

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে (Geopolitics) উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান সংঘাত এবার সরাসরি ইরানের হৃদপিণ্ড বা রাজধানীতে আছড়ে পড়েছে। সোমবার (১৬ মার্চ) ভোরে রাজধানী তেহরানে নতুন করে ব্যাপক বিমান হামলা (Airstrike) শুরু করেছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টার পর ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা দপ্তর থেকে এই নতুন দফা হামলার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়।

ভোররাতের আতঙ্কে তেহরান দিনের শুরুতেই তেহরানের বাসিন্দারা বিকট শব্দে প্রকম্পিত হয়ে ওঠেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো তেহরানের কৌশলগত এলাকাগুলো লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে। তবে ইরান সরকার তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির কোনো সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান না দিলেও হামলা প্রতিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তৎপরতা ইরানি সংবাদমাধ্যম ‘মেহের নিউজ’ (Mehr News) তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, হামলা শুরু হওয়ার পরপরই ইরানের সশস্ত্র বাহিনী তাদের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Air Defense System) সক্রিয় করে তুলেছে। রাজধানীর আকাশে ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো আকাশেই ধ্বংস করার সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে দেশটির সামরিক বাহিনী। তেহরানের আকাশে দফায় দফায় আলোর ঝিলিক এবং বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে, যা মূলত ইন্টারসেপ্টর মিসাইল (Interceptor Missile) ও ইসরায়েলি প্রজেক্টাইলের মধ্যকার সংঘর্ষের ফলাফল।

ইউসেফ আবাদ ও সংঘাতের তীব্রতা সংবাদমাধ্যম ‘আল-জাজিরা’ তেহরানের বর্তমান পরিস্থিতির একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা গেছে, তেহরানের জনবহুল এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ‘ইউসেফ আবাদ’ (Yusef Abad)-এর আকাশে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ইউসেফ আবাদ এলাকাটি ইরানের সবচেয়ে বড় ইহুদি অধ্যুষিত অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। এই এলাকায় হামলার ঘটনাটি সামগ্রিক যুদ্ধের গতিপ্রকৃতিতে নতুন কোনো মাত্রা যোগ করে কি না, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে গভীর আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের মতে, সরাসরি রাজধানীতে এই ধরণের ‘Precision Strike’ বা নিখুঁত হামলা পরিচালনার মাধ্যমে ইসরায়েল ইরানকে চূড়ান্ত সংঘাতের বার্তা দিচ্ছে। অন্যদিকে ইরানও তাদের সামরিক সক্ষমতা (Military Capability) প্রদর্শনের মাধ্যমে পাল্টা জবাব দেওয়ার চেষ্টা করছে। এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা (Regional Stability) এখন খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে।

তেহরানে হামলার এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ওয়াশিংটন এবং অন্যান্য বিশ্বশক্তিগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখলেও আপাতত কোনো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।