• দেশজুড়ে
  • দুর্গম পাহাড়ে চিকিৎসা সেবায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

দুর্গম পাহাড়ে চিকিৎসা সেবায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
দুর্গম পাহাড়ে চিকিৎসা সেবায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

অসীম রায় (অশ্বিনী)

বান্দরবান রুমা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ের প্রতিটি পাড়ায় চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ৬৫ জন শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয় ফার্স্ট এইড প্রশিক্ষণ।

প্রশিক্ষণ টি রুমা উপজেলার রুমা হাই স্কুল প্রাঙ্গনে উল্লেখ যে গত ০৩ মার্চ হতে ১৬ ই মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। আজ সমাপনী অধিবেশনে সোমবার ১৬ মার্চ রুমা উপজেলা হাই স্কুল মাঠে এই প্রশিক্ষণের ফার্স্ট এইড প্রশিক্ষণ সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রুমা জুন বান্দরবানের জোন কমান্ডার লে: কর্নেল মেহেদী হাসান সরকার (এসবিপি পিএসসি), বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ: অধিনায়ক মেজর মাহফুজুর রহমান (পিএসসি), ক্যাপ্টেন আরফ হাসান উদয়, রেজিমেন্টাল মেডিকেল অফিসার ক্যাপ্টেন মো: সোহাগ মিয়া সজীব, সহ বান্দরবান পার্বত্য জেলায় কর্মরত ইলেকট্রিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সংবাদ কর্মীগণ উপস্তিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জোন কমান্ডার লে: কর্নেল মেহেদী হাসান সরকার (এসবিপি পিএসসি) বলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অন্যতম লীলাভূমি। এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মধ্যে লুকিয়ে আছে দূর্গম পাহাড়ি অঞ্চল এবং জনপদ।

দূর্গম পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ায় এই অঞ্চলগুলো সমতল ভূমির চেয়ে অনেকাংশে পিছিয়ে রয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা তার মধ্যে অন্যতম। বান্দরবানের প্রতিটি উপজেলায় একটি করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং কিছু কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। দূর্গম এলাকা হওয়ায় এই স্বাস্থ্য সুবিধা সমূহ স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সবসময়ই হিমশিম খায়।

দূর্গম এলাকাগুলোতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় নিশ্চিত করার জন্য উপযুক্ত স্বাস্থ্যকর্মী প্রয়োজন। এই প্রেক্ষিতে, ৩৬ বীর রুমা জোন এর তত্ত্বাবধানে রুমা উপজেলায় কমিউনিটি নার্সিং ট্রেনিং এর আয়োজন করা হয়। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দূর্গম পাড়া গুলো হতে বাছাইকৃত পাড়াবাসীদেরকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার উপরে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।

উক্ত প্রশিক্ষণে সর্বমোট ৬৫ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করে। প্রশিক্ষণ টি রুমা উপজেলার রুমা হাই স্কুল প্রাঙ্গনে ০৩ মার্চ হতে ১৬ ই মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত প্রশিক্ষণে প্রতিটি সদস্যকে প্রাথমিক রোগ নির্ণয়, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং বিভিন্ন বাস্তব সম্মত বিষয়ে জ্ঞান দেওয়া হয়।

প্রশিক্ষণ শেষে প্রতিটি পাড়ায় প্রয়োজনীয় ঔধষ এবং চিকিৎসা সহায়ক সামগ্রী সম্বলিত একটি করে প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যাগ প্রদান করা হয়। তাছাড়াও প্রত্যেক সদস্যকে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার জন্য একটি করে প্রত্যয়ন পত্র এবং প্রাথমিক চিকিৎসা হ্যান্ডবুক প্রদান করা হয়। রুমু উপজেলার দুর্গম পাড়াগুলো পাড়াপাশি প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য আর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর দৌড়াতে হবে না।

আমরা শিক্ষার্থীদের এমনভাবে প্রশিক্ষণ দিয়েছি যাতে তারা তাদের পাড়ায় প্রতিটি মানুষের কাছে চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে পারে। পরিশেষে তিনি বলেন এসব প্রশিক্ষণ ভবিষ্যতে চলমান থাকবে পাহাড়ে চিকিৎসা সেবা প্রতিটি ঘরে ঘরে মহল্লায় পাড়ায় পাড়ায় পৌঁছে দিতে কাজ করে যাবেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

শিক্ষার্থীরা বলেন ৩৬ বীর রুমা জোন এর জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী হাসান সরকার, এসবিপি, পিএসসি নিজে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যাগ, সার্টিফিকেট এবং হ্যান্ডবুক ও বিভিন্ন ওষুধ বিতরণ করেন। উক্ত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে পেরে প্রশিক্ষণার্থী এবং পাড়াবাসী অত্যন্ত আনন্দিত। তারা আশা করছে ভবিষ্যতেও এই প্রশিক্ষণ চলমান থাকবে।

Tags: চিকিৎসা সেনাবাহিনী দুর্গম পাহাড়