হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় এক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরকীয়া প্রেম ও পারিবারিক কলহের জেরে শাশুড়িকে হত্যার পর ডাকাতির নাটক সাজিয়েছিলেন ঘাতক পুত্রবধূ।
হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট নিহত ফেরদৌসী ইসলাম চৌধুরী (৬৩) নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের মধ্যসমত গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর স্ত্রী। তার ছেলে রফিকুল ইসলাম চৌধুরী বর্তমানে দুবাই প্রবাসী। বাড়িতে শাশুড়ির সঙ্গেই থাকতেন তার পুত্রবধূ তামান্না আক্তার। পুলিশ জানায়, বিয়ের সময় পাওয়া ৫ ভরি স্বর্ণালংকার শাশুড়ির হেফাজতে থাকা নিয়ে দুজনের মধ্যে দীর্ঘদিনের মনোমালিন্য চলছিল।
টিকটক থেকে পরকীয়া ও পরিকল্পনা তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, টিকটকের মাধ্যমে সুনামগঞ্জের শিপন মিয়া নামে এক যুবকের সঙ্গে তামান্নার পরিচয় ও পরে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সম্পর্কের জেরে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা আত্মসাতের পরিকল্পনা করেন তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ দিবাগত রাতে শিপন ও তার সহযোগীরা তামান্নার সহায়তায় ঘরের পেছনের দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে।
ডাকাতির নাটক ও পুলিশি তদন্ত হত্যাকাণ্ডের সময় শাশুড়ি জেগে চিৎকার করার চেষ্টা করলে ঘাতকরা তার হাত-পা বেঁধে মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। ঘটনাটিকে ডাকাতি হিসেবে চালিয়ে দিতে শিপন ও তার সহযোগীরা তামান্নাকেও হাত-পা বেঁধে রেখে স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায়। সোমবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ এবং তামান্নাকে জীবিত উদ্ধার করে।
স্বীকারোক্তি ও গ্রেপ্তার প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তামান্না ডাকাতির গল্প বললেও ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। এ ঘটনায় নিহতের ভাই ফারুক হোসেন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। র্যাব-৯ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে. এম. শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার তামান্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত শিপন ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।