পটুয়াখালী ও বরিশালের সংযোগস্থলে প্রস্তাবিত গোলচত্বর এলাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ‘নলুয়া-বাহেরচর’ সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন অন্তর্বর্তী সরকারের সড়ক পরিবহন, সেতু, রেলপথ ও নৌ পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
বিগত সরকারের সমালোচনা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে মন্ত্রী বলেন, "আওয়ামী লীগ সরকারের অদক্ষতা এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার অভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজে স্থবিরতা ছিল। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কাজে গতি সঞ্চার হয়েছে, যার ফলে আজ এই সেতুর নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা সম্ভব হলো।"
সেতুর কারিগরি ও আর্থিক বিবরণ সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এই মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ২৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা। সেতুর মোট দৈর্ঘ্য হবে ১৩৮০ মিটার। এর মধ্যে মূল অংশটি হবে ৪২০ মিটারের স্টিল টাইড আর্চ এবং অবশিষ্ট ৯৬০ মিটার ভায়াডাক্ট অংশ হবে প্রি-স্ট্রেসড আই গার্ডার পদ্ধতিতে। এছাড়া প্রকল্পের আওতায় ৩.২৯ কিলোমিটার অ্যাপ্রোচ সড়ক, টোল প্লাজা এবং নদীতীর সংরক্ষণের কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বাস্তবায়ন ও সময়সীমা চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন’ সেতুটি নির্মাণের কাজ পেয়েছে। ২০২১ সালে একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদিত হলেও নানা জটিলতায় কাজ থমকে ছিল। বর্তমান লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর নাগাদ সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
আঞ্চলিক উন্নয়নে প্রভাব নলুয়া-বাহেরচর সেতুটি চালু হলে বরিশালের সাথে পটুয়াখালীর দুমকি ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হবে। এতে যাতায়াতের সময় কমে আসার পাশাপাশি স্থানীয় কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
অনুষ্ঠানে পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ এবং বরিশাল-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হোসেনসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ।