• জাতীয়
  • মধ্যপ্রাচ্যের রণাঙ্গনে স্থবির আকাশপথ: শাহ আমানতে আরও ৮ ফ্লাইট বাতিল, মোট সংখ্যা ছাড়ালো ১৪৫

মধ্যপ্রাচ্যের রণাঙ্গনে স্থবির আকাশপথ: শাহ আমানতে আরও ৮ ফ্লাইট বাতিল, মোট সংখ্যা ছাড়ালো ১৪৫

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
মধ্যপ্রাচ্যের রণাঙ্গনে স্থবির আকাশপথ: শাহ আমানতে আরও ৮ ফ্লাইট বাতিল, মোট সংখ্যা ছাড়ালো ১৪৫

দুবাই-শারজাহ-আবুধাবি রুটে চরম অনিশ্চয়তা; ভূ-রাজনৈতিক সংকটের জেরে বিপর্যস্ত চট্টগ্রামের আন্তর্জাতিক এভিয়েশন সেক্টর।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব আরও প্রকট হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের এভিয়েশন সেক্টরে। আঞ্চলিক সংঘাতের জেরে দুবাই, আবুধাবি, শারজাহ ও দোহার মতো গুরুত্বপূর্ণ এয়ারফিল্ডগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণ করায় বড় ধরনের শিডিউল বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। বুধবার (১৮ মার্চ) নতুন করে আরও ৮টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। এর ফলে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংকটে মোট বাতিলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪৫-এ।

ফ্লাইট বাতিলের বিস্তারিত চিত্র বুধবার বিকেলে বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা ইব্রাহীম খলিল সর্বশেষ পরিস্থিতি নিশ্চিত করে জানান, বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মধ্যপ্রাচ্যগামী দুটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইট রয়েছে। এছাড়া বেসরকারি এয়ারলাইনস ইউএস-বাংলা-র একটি আগমন ও একটি বহির্গমন ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। সবথেকে বেশি সংকটে পড়েছে এয়ার আরাবিয়া; তাদের শারজাহ রুটের মোট ৪টি (২টি আগমন ও ২টি বহির্গমন) ফ্লাইটের যাত্রা স্থগিত করা হয়েছে।

অচলবস্থার নেপথ্যে মধ্যপ্রাচ্য সংকট Aviation Experts-দের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় চলমান সামরিক উত্তেজনা এবং বেশ কিছু দেশের Airspace বা আকাশপথ ব্যবহার নিয়ে কড়াকড়ি আরোপ করার ফলে এই নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের প্রধান বিমানবন্দরগুলোতে বিমান ওঠানামায় সীমাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় চট্টগ্রামের সাথে এই রুটের সংযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হওয়ার পথে। সালাম এয়ারসহ একাধিক আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার তাদের অপারেশন ইতোমধ্যে স্থগিত রেখেছে।

সীমিত পরিসরে চলছে কার্যক্রম ফ্লাইট বাতিলের হিড়িক পড়লেও সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়েনি শাহ আমানত বিমানবন্দর। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও বুধবার মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা ৯টি আগমনী এবং ৫টি বহির্গামী ফ্লাইট কোনোমতে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। তবে এই ‘লিমিটেড অপারেশন’ কতক্ষণ বজায় রাখা সম্ভব হবে, তা নিয়ে সংশয় কাটছে না। যাত্রীদের চরম ভোগান্তি এড়াতে অনেক এয়ারলাইনস তাদের যাত্রীদের আগেভাগেই তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করছে, যদিও অনিশ্চয়তা কাটছে না।

ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ঝুঁকি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘায়িত সংকটে এখন পর্যন্ত ১৪৫টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনস ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। এছাড়া হাজার হাজার প্রবাসী কর্মী যারা ছুটিতে দেশে ফিরতে চেয়েছিলেন কিংবা কর্মস্থলে ফিরতে উন্মুখ ছিলেন, তাদের ভবিষ্যৎ এখন সুতোর ওপর ঝুলছে।

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও সামরিক অস্থিরতা নিরসন না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট সূচিতে এমন অনিশ্চয়তা এবং বাতিল হওয়ার ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। যাত্রীদের বিমানবন্দরে আসার আগে নিজ নিজ এয়ারলাইনসের সাথে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Tags: middle east aviation news biman bangladesh geopolitical crisis war impact flight cancel shah amanat chittagong airport air arabia travel alert