দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে এবং বিশেষ করে এলপি গ্যাসের (LPG) আমদানিতে গতি আনতে বড় ধরনের নীতিগত ছাড় দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বুধবার (২৫ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
ঋণ প্রদানের একক সীমাবদ্ধতা থেকে অব্যাহতি
সাধারণত ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যাংক তার মোট মূলধনের একটি নির্দিষ্ট অংশের বেশি ঋণ একক কোনো ব্যক্তি বা গ্রুপকে দিতে পারে না। তবে জ্বালানি খাতের গুরুত্ব বিবেচনা করে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ২৬খ(১) ধারার শর্তাংশ থেকে এই খাতকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে এলপিজি এবং জ্বালানি আমদানিকারকরা বড় অংকের ঋণ সুবিধা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।
ডিসেম্বর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে নতুন নিয়ম
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, জ্বালানি আমদানির জন্য এলসি মার্জিনসহ একক ঋণসীমার এই বিশেষ বিধান আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এর আগে এই খাতের জন্য নির্ধারিত ২৫ শতাংশ ঊর্ধ্বসীমা শিথিল করা হয়েছে। এখন থেকে এই নতুন ঊর্ধ্বসীমা কত হবে, তা পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারণ করে দেবে।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
সাম্প্রতিক সময়ে ডলার সংকট এবং এলসি (ঋণপত্র) খোলার ক্ষেত্রে নানা জটিলতায় জ্বালানি আমদানিতে বাধার সৃষ্টি হচ্ছিল। বিশেষ করে রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপি গ্যাসের চাহিদার বড় একটি অংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল। আসন্ন দিনগুলোতে যাতে বাজারে কোনো ধরনের জ্বালানি সংকট তৈরি না হয়, সেই লক্ষ্যেই ব্যাংকগুলোকে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে এই বাড়তি ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে।
ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা প্রদান
ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ১২১ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ ব্যাংক এই নির্দেশনা জারি করেছে। দেশের সকল তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে এই নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে, যাতে তারা দ্রুততার সাথে আমদানিকারকদের প্রয়োজনীয় ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করতে পারেন।