দেশের বাজারে স্বর্ণের আকাশছোঁয়া দামের গ্রাফে আবারও বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে স্বর্ণের দাম এক ধাক্কায় ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকা, যা এর আগে ছিল ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকা।
আজ সকাল থেকেই কার্যকর নতুন দাম
বুধবার (২৫ মার্চ) সকালে বাজুস মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্থানীয় বাজারে ‘তেজাবি স্বর্ণের’ (পিওর গোল্ড) দাম হ্রাস পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্বর্ণের নতুন এই ‘মার্কেট ভ্যালু’ (Market Value) নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ সকাল ১০টা থেকেই সারা দেশের জুয়েলারি দোকানগুলোতে এই নতুন দর কার্যকর হয়েছে।
ক্যারেট অনুযায়ী স্বর্ণের নতুন দর
স্বর্ণের মান অনুযায়ী ক্যারেট প্রতি দামের যে পরিবর্তন আনা হয়েছে তা হলো:
২২ ক্যারেট: প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকা।
২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ৩০ হাজার ৪৮১ টাকা।
১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৩০ টাকা।
সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার ৯০৫ টাকা।
অস্থিতিশীল বাজার ও ঘন ঘন সমন্বয়
চলতি ২০২৬ সালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দামের অস্থিরতা বা ‘ভোল্টালিটি’ (Volatility) অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। বছরের এই তিন মাসেই মোট ৪৬ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৬ বার বাড়ানো হয়েছে এবং ২০ বার কমানো হয়েছে। এর আগে গত ১৯ মার্চও বড় ধরনের পতন হয়েছিল স্বর্ণের দামে, সেদিন ভরিতে কমেছিল ৭ হাজার ৬৯৮ টাকা।
২০২৫ সালেও স্বর্ণের বাজার ছিল অত্যন্ত টালমাটাল। গত বছর মোট ৯৩ বার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয় এবং কমানো হয় ২৯ বার। মূলত বিশ্ববাজারের ‘গ্লোবাল ইকোনমিক ট্রেন্ড’ (Global Economic Trend) এবং স্থানীয় যোগান-চাহিদার ওপর ভিত্তি করেই এই দ্রুত পরিবর্তন আসছে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
রুপার বাজারে স্থিতি
স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পরিবর্তন এলেও দেশের বাজারে রুপার দাম বর্তমানে অপরিবর্তিত রয়েছে। বাজুসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা আগের মতোই ৫ হাজার ৩৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ২১ ক্যারেট ৫ হাজার ১৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৪৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ২৯ বার রুপার দাম সমন্বয় করা হলেও এবার তা আগের দরেই রাখা হয়েছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ ‘ইনফ্লেশন’ (Inflation) বা মুদ্রাস্ফীতির বাজারে স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হলেও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের জন্য এই দাম কমার খবরটি স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে বিয়ের মৌসুম ও উৎসবের আগে স্বর্ণের এমন বড় দরপতন খুচরা বাজারে কেনাবেচার পরিমাণ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।