দেশের শিক্ষা ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সহধর্মিণী এবং বরেণ্য শিক্ষাবিদ দিলারা হাফিজ আর নেই। শনিবার (২৮ মার্চ) স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে (Singapore General Hospital) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। প্রথিতযশা এই ব্যক্তিত্বের চিরবিদায়ে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
স্মৃতির পাতায় এক উজ্জ্বল নক্ষত্র: বর্ণাঢ্য কর্মজীবন
দিলারা হাফিজ কেবল স্পিকারের সহধর্মিণী হিসেবেই নন, বরং একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষাবিদ (Academician) হিসেবে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলেছিলেন। তার দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রসারে ও আধুনিকায়নে অনন্য ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি রাজধানীর খ্যাতনামা ইডেন মহিলা কলেজ ও সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ (Principal) হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (DSHE) মহাপরিচালক (Director General) হিসেবেও তিনি সফলভাবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তার মৃত্যুতে জাতি একজন মেধাবী অভিভাবককে হারাল।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোকবার্তা
দিলারা হাফিজের মৃত্যুসংবাদ শোনার পর এক শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। রাষ্ট্রপতি তার বার্তায় উল্লেখ করেন, “শিক্ষা ক্ষেত্রে মরহুমা দিলারা হাফিজের অসামান্য অবদান জাতি চিরকাল কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ রাখবে।”
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক এক শোকবার্তায় মরহুমাকে একজন ‘সজ্জন শিক্ষাবিদ’ ও সমাজসেবী হিসেবে অভিহিত করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দিলারা হাফিজের মৃত্যুতে দেশ একজন দক্ষ শিক্ষা প্রশাসক ও অনন্য গুণসম্পন্ন মানুষকে হারাল। তার অভাব সহজে পূরণ হবার নয়।” শোকবার্তায় তিনি স্পিকার ও তার পরিবারের সদস্যদের এই কঠিন সময়ে ধৈর্য ধারণের শক্তি দান করার জন্য পরম করুণাময় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।
শোকবিহ্বল রাজনৈতিক ও সামাজিক মহল
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতার কারণে তিনি সিঙ্গাপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য অবস্থান করছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্বামী, এক পুত্র, এক কন্যা এবং নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা এবং মন্ত্রিসভার সদস্যরাও গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
দিলারা হাফিজের মরদেহ সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে। তার জানাজা ও দাফনের সময়সূচি পরবর্তী সময়ে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হবে বলে জানানো হয়েছে। একজন সফল মা, গৃহিণী এবং সর্বোপরি একজন মহান শিক্ষক হিসেবে দিলারা হাফিজের জীবন ও কর্ম আগামী প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।