• দেশজুড়ে
  • রাঙ্গামাটিতে জ্বালানি হাহাকার: তেলের জন্য ১ কিলোমিটার দীর্ঘ লাইন, পাম্পে পাহারায় সেনাবাহিনী

রাঙ্গামাটিতে জ্বালানি হাহাকার: তেলের জন্য ১ কিলোমিটার দীর্ঘ লাইন, পাম্পে পাহারায় সেনাবাহিনী

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
রাঙ্গামাটিতে জ্বালানি হাহাকার: তেলের জন্য ১ কিলোমিটার দীর্ঘ লাইন, পাম্পে পাহারায় সেনাবাহিনী

দুই দিন পর সরবরাহ শুরু হতেই হুলস্থুল; ব্যাহত হচ্ছে সেচ কাজ, মজুতদার রুখতে কঠোর অবস্থানে জেলা প্রশাসন।

পাহাড়ঘেরা পর্যটন শহর রাঙ্গামাটিতে তীব্রতর হয়ে উঠেছে জ্বালানি সংকট। দীর্ঘ দুই দিন সরবরাহ বন্ধ থাকার পর শনিবার (২৮ মার্চ) শহরের মেসার্স মহসিন ফিলিং স্টেশনে (Filling Station) অকটেন ও ডিজেল বিক্রি শুরু হলেও তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন পরিস্থিতি। এক লিটার জ্বালানি তেলের জন্য মোটরসাইকেলের লাইন ছাড়িয়ে গেছে প্রায় এক কিলোমিটার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পাম্পগুলোতে মোতায়েন করা হয়েছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ।

রাজপথে দীর্ঘ প্রতীক্ষা: জনজীবনে চরম ভোগান্তি

সরেজমিনে দেখা গেছে, শনিবার সকাল থেকেই শহরের প্রধান সড়কে শত শত মোটরসাইকেল আরোহী লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও চাহিদামতো তেল না পেয়ে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় সাধারণ যাতায়াতের পাশাপাশি স্থবির হয়ে পড়েছে জরুরি পরিবহন ব্যবস্থা। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা চালকদের অভিযোগ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও পর্যাপ্ত জ্বালানি মিলছে না, যা সাধারণ নাগরিকদের প্রাত্যহিক কর্মব্যস্ততায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বিপাকে কৃষি খাত: ব্যাহত হচ্ছে সেচ কাজ

জ্বালানি সংকটের আঁচ লেগেছে পাহাড়ের কৃষি অর্থনীতিতেও। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ডিজেল ও অকটেনের সরবরাহ বিলম্বিত হওয়ায় সময়মতো সেচ পাম্প (Irrigation Pump) চালানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে বোরো মৌসুমে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে দুর্গম এলাকাগুলোতে যেখানে পাম্পের ওপর কৃষি উৎপাদন নির্ভরশীল, সেখানে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।

চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অপ্রতুল: পাম্প কর্তৃপক্ষের দাবি

জ্বালানি সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মেসার্স মহসিন ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. আব্দুল বাতেন জানান, চাহিদার তুলনায় ডিপো থেকে সরবরাহ অনেক কম। তিনি বলেন, “২০২৫ সালের বরাদ্দ অনুযায়ী আমাদের জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে। আগে যেখানে ৪ হাজার লিটার অকটেন বিক্রি হতে ৪ দিন সময় লাগত, বর্তমান উচ্চ চাহিদার (High Demand) কারণে সেই একই পরিমাণ তেল মাত্র ৩ থেকে ৪ ঘণ্টায় শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে দ্রুত স্টক আউট (Stock Out) হয়ে যাওয়ায় আমরা গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ করতে পারছি না।”

মাঠে নেমেছে প্রশাসন ও সেনাবাহিনী

জ্বালানি তেলের এই সংকটকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয়, সেদিকে কড়া নজর রাখছে স্থানীয় প্রশাসন। রাঙ্গামাটির অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত শারমিন জানান, শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর একটি করে টিম (Team) কাজ করছে।

তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা নিয়মিত তদারকি করছি এবং বিভিন্ন পয়েন্টে মোবাইল টিম (Mobile Team) কাজ করছে। কেউ যাতে অবৈধভাবে তেল মজুত (Hoarding) করতে না পারে, সেটি কঠোরভাবে দেখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত মজুত করার কোনো অকাট্য প্রমাণ না মিললেও আমরা প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছি।”

সামগ্রিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ শঙ্কা

রাঙ্গামাটির এই জ্বালানি সংকট দ্রুত নিরসন না হলে যাতায়াত ও কৃষির পাশাপাশি পর্যটন শিল্পেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সাপ্লাই চেইন (Supply Chain) স্বাভাবিক করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পাহাড়ের এই সংকটে জ্বালানি তেল বণ্টন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

Tags: energy crisis bangladesh army district administration fuel crisis rangamati news filling station octane supply irrigation problem