• আন্তর্জাতিক
  • ইরানে কয়েক সপ্তাহব্যাপী বিশেষ স্থল অভিযানের ছক আমেরিকার: ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর রিপোর্টে যুদ্ধের নতুন মোড়

ইরানে কয়েক সপ্তাহব্যাপী বিশেষ স্থল অভিযানের ছক আমেরিকার: ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর রিপোর্টে যুদ্ধের নতুন মোড়

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
ইরানে কয়েক সপ্তাহব্যাপী বিশেষ স্থল অভিযানের ছক আমেরিকার: ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর রিপোর্টে যুদ্ধের নতুন মোড়

মধ্যপ্রাচ্যে হাজারো মার্কিন সেনা মোতায়েন; তেল রপ্তানির প্রাণকেন্দ্র খার্গ দ্বীপ টার্গেট হতে পারে—এমনটাই দাবি গোয়েন্দা সূত্রের।

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে এবার ইরানের অভ্যন্তরে কয়েক সপ্তাহব্যাপী দীর্ঘস্থায়ী স্থল অভিযান বা ‘Ground Offensive’-এর প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’ গত রোববার (২৯ মার্চ) এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পেন্টাগন ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত পয়েন্টগুলোতে কয়েক হাজার অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন সম্পন্ন করেছে, যাদের মূল লক্ষ্য হতে পারে ইরানের অভ্যন্তরে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ।

প্রথাগত যুদ্ধ নয়, লক্ষ্য যখন বিশেষ ‘রেইড’ ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত এই স্থল হামলাটি কোনো প্রথাগত বা সাধারণ সামরিক অভিযান হবে না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা একে যুদ্ধের একটি ‘নতুন ধাপ’ (New Phase of War) হিসেবে অভিহিত করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বড় আকারের ট্যাংক বহর বা পদাতিক বাহিনীর বদলে এই অভিযানে মূলত ‘Special Forces’ এবং কামন্দাজ বা ‘Artillery’ ইউনিটের সমন্বয়ে বিশেষ ‘Raid’ বা ঝটিকা অভিযান চালানো হবে। তবে এই প্রক্রিয়াটি কয়েক সপ্তাহ এমনকি কয়েক মাস পর্যন্ত দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি যুদ্ধ শুরুর প্রাথমিক পর্যায়ের চেয়েও অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপজ্জনক হতে চলেছে।

টার্গেটে ইরানের লাইফলাইন: খার্গ দ্বীপ মার্কিন সামরিক পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরানের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ‘খার্গ দ্বীপ’ (Kharg Island)। পারস্য উপসাগরের এই দ্বীপটি হরমুজ প্রণালীর ঠিক পাশেই অবস্থিত, যেখান থেকে ইরান তাদের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশ রপ্তানি করে থাকে। মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, এই দ্বীপটি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারলে বা সেখানে সামরিক আধিপত্য বিস্তার করতে পারলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের ‘Safety and Security’ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একটি সূত্র জানিয়েছে, এই নির্দিষ্ট অভিযানের মেয়াদ কয়েক মাস পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

হোয়াইট হাউসের সতর্কতা ও সামরিক প্রস্তুতি এই যুদ্ধ পরিকল্পনা নিয়ে হোয়াইট হাউসের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভেট একটি ভারসাম্যপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি জানান, “প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাজই হলো সম্ভাব্য সব পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকা, যাতে কমান্ডার-ইন-চিফ (প্রেসিডেন্ট) প্রয়োজনে সর্বোচ্চ সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন। তবে পরিকল্পনা করার অর্থ এই নয় যে, প্রেসিডেন্ট ইতিমধ্যে সরাসরি স্থল হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন।”

এদিকে, মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, ইরানি ভূখণ্ডে প্রবেশ করলে মার্কিন সেনাদের ড্রোন হামলা (Drone Strikes), ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং সরাসরি গুলিবর্ষণের মুখে পড়তে হতে পারে। ইরানের উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও প্রক্সি নেটওয়ার্কের কারণে এই রেইডগুলো অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠতে পারে।

রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পরিসংখ্যান গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ক্রমশ বাড়ছে। সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ৩০০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এই ক্রমবর্ধমান হতাহতের ঘটনা ওয়াশিংটনকে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের অভ্যন্তরে যদি যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই স্থল অভিযান শুরু করে, তবে তা কেবল দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং সমগ্র বিশ্ব অর্থনীতি ও এনার্জি মার্কেটে (Energy Market) এর বিধ্বংসী প্রভাব পড়তে পারে।