• আন্তর্জাতিক
  • মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-ইসরায়েলি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের: বিপ্লবী গার্ডের কড়া ‘আল্টিমেটাম’

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-ইসরায়েলি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের: বিপ্লবী গার্ডের কড়া ‘আল্টিমেটাম’

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-ইসরায়েলি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের: বিপ্লবী গার্ডের কড়া ‘আল্টিমেটাম’

তেহরানের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার বদলা নিতে কাতার ও আমিরাতের ক্যাম্পাসগুলো ত্যাগের নির্দেশ; ৩০ মার্চের মধ্যে ক্ষমা চাওয়ার শর্ত আইআরজিসি-র।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ এবার রণক্ষেত্র ছাড়িয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দোরগোড়ায় পৌঁছেছে। ইরানের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ও ইসরায়েলি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হামলার হুমকি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (IRGC)। রোববার (২৯ মার্চ) এক কঠোর বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা ইতিমধ্যে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ‘বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

ক্যাম্পাস ত্যাগের নির্দেশ ও ১ কিলোমিটারের রেড লাইন বিপ্লবী গার্ডের পক্ষ থেকে জারি করা সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, সম্ভাব্য হামলার ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবিলম্বে ক্যাম্পাস ছেড়ে অন্তত এক কিলোমিটার দূরে অবস্থান নিতে হবে। এই ‘Pre-emptive Warning’ বা আগাম সতর্কবার্তা নির্দেশ করছে যে, ইরান যেকোনো মুহূর্তে ড্রোন বা মিসাইল ব্যবহার করে এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে আঘাত হানতে পারে।

কেন এই হুমকি? আইআরজিসি-র যুক্তি বিবৃতিতে বিপ্লবী গার্ড স্পষ্ট করেছে যে, এই কঠোর পদক্ষেপটি মূলত একটি ‘Retaliatory Action’ বা প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা। তারা দাবি করেছে, সম্প্রতি তেহরানের ঐতিহ্যবাহী ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’ (Tehran University of Science and Technology)-সহ ইরানের দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী। আইআরজিসি-র মতে, “যেহেতু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আক্রান্ত হয়েছে, তাই তাদের একাডেমিক প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন আমাদের বৈধ টার্গেটে পরিণত হয়েছে।”

৩০ মার্চের আল্টিমেটাম ও শর্ত তবে সরাসরি সংঘাতে যাওয়ার আগে ওয়াশিংটনকে একটি সুযোগ দিচ্ছে তেহরান। বিপ্লবী গার্ড জানিয়েছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র আগামী ৩০ মার্চের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার নিন্দা জানায় এবং দুঃখ প্রকাশ করে, তবে তারা পাল্টা আক্রমণ থেকে বিরত থাকবে। অন্যথায়, এই হামলার পরিধি কেবল দু’একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সীমাবদ্ধ থাকবে না বরং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা মার্কিন ও ইসরায়েলি স্বার্থসংশ্লিষ্ট আরও অনেক ‘Academic Institution’ এবং গবেষণা কেন্দ্র টার্গেটে পরিণত হবে।

ঝুঁকিতে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএন-এর তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শাখা বা ‘Satellite Campuses’ রয়েছে। এর মধ্যে কাতারে রয়েছে টেক্সাস এ অ্যান্ড এম বিশ্ববিদ্যালয় (Texas A&M University) এবং নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে (UAE) রয়েছে নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের (NYU) বিশাল ক্যাম্পাস। আইআরজিসি-র এই হুমকির পর এসব ক্যাম্পাসে অবস্থানরত হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও পশ্চিমা নাগরিকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

যুদ্ধের নতুন মাত্রা: ‘সফট টার্গেট’ যখন লক্ষ্যবস্তু গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে উভয় পক্ষ মূলত সামরিক স্থাপনা ও কৌশলগত পয়েন্টগুলোতে আঘাত হানছিল। কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করার এই নতুন প্রবণতা যুদ্ধকে একটি ‘Dangerous Turn’ বা বিপজ্জনক মোড়ে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধের ময়দান থেকে সরিয়ে নজর এখন ‘Soft Targets’-এর দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারের চরম পরিপন্থী।

বিবৃতিতে আইআরজিসি আরও সতর্ক করে বলেছে, “যদি যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সুরক্ষা চায়, তবে তাদের মিত্রদের (ইসরায়েল) অবশ্যই ইরানের গবেষণা কেন্দ্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো থেকে বিরত রাখতে হবে।” এখন দেখার বিষয়, ৩০ মার্চের আল্টিমেটাম শেষ হওয়ার আগে ওয়াশিংটন কোনো কূটনৈতিক সমাধান খোঁজে নাকি মধ্যপ্রাচ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এক ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের সাক্ষী হয়।

Tags: middle east war irgc threat university attack tehran science tech qatar campus uae university academic target iran ultimatum us israel conflict retaliation strike