ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে যে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছিল, তাতে পাকিস্তানের বেশ কিছু বাণিজ্যিক জাহাজ আটকা পড়েছিল। তবে দীর্ঘ আলোচনার পর ইরান সেই অচলাবস্থা নিরসনে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।
জাহাজ চলাচলে বিশেষ শিথিলতা পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশহাক দার জানিয়েছেন, ইরান সরকার প্রতিদিন পাকিস্তানের দুটি করে জাহাজকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেবে। এভাবে ধাপে ধাপে পাকিস্তানের মোট ২০টি জাহাজ এই পথ ব্যবহার করতে পারবে। ইশহাক দার ইরানের এই পদক্ষেপকে ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক’ হিসেবে বর্ণনা করে তেহরানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে পাকিস্তানের বাণিজ্যিক খাত বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সৃষ্ট উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তান পর্দার আড়ালে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনার সেতুবন্ধন হিসেবে ইসলামাবাদ কাজ করছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। এই কূটনৈতিক তৎপরতার বিনিময়েই ইরান পাকিস্তানকে এই বিশেষ সুবিধা প্রদান করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ওমান উপকূলে মার্কিন জাহাজে হামলা পাকিস্তানের জাহাজকে সুযোগ দেওয়ার সংবাদের সমান্তরালে ওই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনাও অব্যাহত রয়েছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে, তারা ওমান উপকূলের কাছে একটি মার্কিন সামরিক সহায়তা জাহাজে সফল হামলা চালিয়েছে। আল জাজিরার তথ্যমতে, শনিবার (২৮ মার্চ) ওমানের সালালাহ বন্দর থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে থাকা ওই মার্কিন জাহাজটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
ইরানের অনমনীয় অবস্থান আইআরজিসির মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তারা ওমানের মতো ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে লোহিত সাগর বা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ও ইসরায়েলি উপস্থিতির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। অর্থাৎ, যখন পাকিস্তান ওমানের মধ্য দিয়ে বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে, ঠিক তখনই মার্কিন স্বার্থের ওপর আঘাত হানছে ইরান, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।