ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট শিল্প অবকাঠামো লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। শনিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্স ও নৌবাহিনী যৌথভাবে এই হামলার ঘোষণা দেয়।
লক্ষ্যবস্তু ও হামলার বিবরণ আইআরজিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘ইমারেটস অ্যালুমিনিয়াম (ইমাল)’ এবং বাহরাইনের ‘অ্যালুমিনিয়াম বাহরাইন (আলবা)’ কারখানাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। হামলা চালাতে উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান।
কেন এই হামলা? ইরানের অভিযোগ, মার্কিন-জায়োনিস্ট শক্তি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে ব্যবহার করে ইরানের শিল্প অবকাঠামো ধ্বংসের চেষ্টা চালাচ্ছে। এর জবাবেই এই প্রতিরক্ষামূলক এবং প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আইআরজিসি জানায়, বাহরাইনের আলবা কারখানায় সরাসরি মার্কিন বিনিয়োগ রয়েছে এবং এটি মার্কিন সেনাবাহিনীর সামরিক-শিল্প উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কারখানা দুটির গুরুত্ব ইমারেটস অ্যালুমিনিয়াম (ইমাল) বিশ্বের দীর্ঘতম অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন লাইনের অধিকারী, যার বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ১৩ লাখ টন। অন্যদিকে, বাহরাইনের আলবা কারখানাটি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান যা মার্কিন সামরিক ও মহাকাশ প্রযুক্তি খাতের জন্য কাঁচামাল সরবরাহ করে থাকে।
আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক উদ্বেগ এই হামলার ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে শিল্প ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত আক্রান্ত দুই কারখানার পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সম্পর্কের উত্তজনা আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল।