সংযুক্ত আরব আমিরাতের শিল্প ও অর্থনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ ‘আমিরাত গ্লোবাল অ্যালুমিনিয়াম’ (EGA)-এর একটি বিশাল উৎপাদন কেন্দ্রে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইরান। শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে আবুধাবির কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘খলিফা ইকোনমিক জোন’-এ অবস্থিত ‘আল তাওইলাহ’ (Al Taweelah) প্ল্যান্টে এই হামলা চালানো হয়। এতে স্থাপনাটির ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
টার্গেটে গ্লোবাল সাপ্লাই চেইন: আল তাওইলাহ প্ল্যান্টে তাণ্ডব আমিরাত গ্লোবাল অ্যালুমিনিয়ামের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, শনিবার ভোরের দিকে ইরানের দিক থেকে ধেয়ে আসা একঝাঁক ড্রোন ও মিসাইল সরাসরি তাদের উৎপাদন কেন্দ্রকে লক্ষ্যবস্তু করে। আবুধাবির এই প্ল্যান্টটি আমিরাতের সামগ্রিক ‘Industrial Output’ এবং আন্তর্জাতিক ‘Supply Chain’-এর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হামলার ফলে কারখানার বিশাল একটি অংশে আগুন ধরে যায় এবং উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, হামলায় কারখানায় কর্মরত বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন। তবে আশার কথা হলো, আহতদের কারও অবস্থাই আশঙ্কাজনক নয়। বর্তমানে কারখানার ‘Infrastructure’ বা অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করতে প্রকৌশলী ও বিশেষ টিম কাজ করছে।
মিসাইল ও ড্রোনের বৃষ্টি: প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পরিসংখ্যান আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিশেষ বুলেটিনে জানিয়েছে, শুধুমাত্র শনিবারই ইরান আমিরাত অভিমুখে ২০টি ‘Ballistic Missile’ এবং ৩৭টি বিধ্বংসী ড্রোন (Drone) ছুড়েছে। যদিও দেশটির উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অনেকগুলো হামলা ‘Intercept’ বা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে, তবে বেশ কিছু মিসাইলের ধ্বংসাবশেষ খলিফা ইকোনমিক জোনের স্পর্শকাতর এলাকায় আছড়ে পড়ে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিসাইলের ধ্বংসাবশেষ পড়ার পরপরই খলিফা ইকোনমিক জোনের একাধিক স্থাপনায় দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে এই সর্বাত্মক সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে আমিরাত এ পর্যন্ত ৩৯৮টি মিসাইল এবং ১ হাজার ৮৭২টি ড্রোন প্রতিহত করার দাবি করেছে।
রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও জীবনহানি ইরানের এই ক্রমবর্ধমান হামলায় আমিরাতের সাধারণ নাগরিক ও সামরিক বাহিনীর মধ্যে বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা। সরকারি তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত ইরানের হামলায় আমিরাতে ১১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য এবং বাকি ৮ জন বেসামরিক নাগরিক।
অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ‘আমিরাত গ্লোবাল অ্যালুমিনিয়াম’-কে বেছে নেওয়া অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনে আমিরাত বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দেশ। এই শিল্পে আঘাত হানার অর্থ হলো দেশটির ‘Market Value’ এবং বিশ্ববাজারে পণ্য সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটানো। বিশেষ করে আবুধাবির প্রধান অর্থনৈতিক জোনে এই হামলা আমিরাতের বিনিয়োগবান্ধব ইমেজের ওপর একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই প্রক্সি যুদ্ধ যেভাবে সরাসরি রাষ্ট্রীয় অবকাঠামোর ওপর আঘাত হানছে, তাতে বৈশ্বিক ‘Energy Market’ এবং বাণিজ্যিক নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।