২০২৪ সাল শেষ করেছিলেন ‘পুষ্পা ২: দ্য রুল’-এর মতো ব্লকবাস্টার দিয়ে, আর ২০২৫ সাল জুড়েও যে বক্স অফিসের রাজত্ব তাঁর দখলেই থাকতে চলেছে, তার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে রাশমিকা মান্দানার আসন্ন সিনেমার তালিকা থেকে। হিন্দি থেকে দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রি, একের পর এক বড় বাজেটের সিনেমায় তাঁর উপস্থিতি বুঝিয়ে দিচ্ছে, এই মুহূর্তে প্রযোজক ও পরিচালকদের কাছে অন্যতম নির্ভরযোগ্য নাম তিনি। বিভিন্ন সূত্রের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ সালে তাঁর অভিনীত সিনেমাগুলির সম্মিলিত ব্যবসার পরিমাণ ১,৩০০ কোটি রুপি ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা এক কথায় নজিরবিহীন।
২০২৫: কেন রাশমিকার বছর হতে চলেছে? চলতি বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালকে রাশমিকার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বছর হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তাঁর হাতে রয়েছে এমন কিছু সিনেমা, যা শুধুমাত্র প্যান-ইন্ডিয়া স্তরেই নয়, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও সাড়া ফেলার সম্ভাবনা রাখে।
বছরের শুরুতেই লক্ষ্মণ উতেকরের ঐতিহাসিক অ্যাকশন সিনেমা ‘ছাবা’-তে ভিকি কৌশলের বিপরীতে দেখা যাবে তাঁকে। ছত্রপতি সম্ভাজি মহারাজের জীবনের ওপর নির্মিত এই সিনেমাকে ঘিরে দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে। এরপরই রয়েছে বছরের অন্যতম প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘সিকান্দার’। এ. আর. মুরুগোদাস পরিচালিত এই অ্যাকশন-এন্টারটেইনারে তিনি প্রথমবার জুটি বাঁধছেন বলিউড ‘ভাইজান’ সালমান খানের সঙ্গে। ট্রেড অ্যানালিস্টদের মতে, শুধুমাত্র এই দুটি সিনেমাই বক্স অফিসে বিশাল অঙ্কের ব্যবসা করার ক্ষমতা রাখে।
দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রি থেকে বলিউড: অপ্রতিরোধ্য যাত্রা হিন্দিতে নিজের জায়গা পাকা করার পাশাপাশি দক্ষিণী সিনেমাতেও তাঁর দাপট অব্যাহত। শেখর কাম্মুলা পরিচালিত তামিল-তেলেগু সিনেমা ‘কুবেরা’-তে তাঁকে দেখা যাবে ধানুশের মতো বড় তারকার সঙ্গে। এছাড়াও রাহুল রবিন্দ্রন পরিচালিত ‘দ্য গার্লফ্রেন্ড’ নামক একটি রোমান্টিক-ড্রামা নিয়েও চলছে জোর আলোচনা। এই প্রতিটি সিনেমাই ভিন্ন ঘরানার, যা অভিনেত্রী হিসেবে রাশমিকার বহুমুখী প্রতিভার পরিচায়ক।
সব মিলিয়ে, ২০২৫ সালে মুক্তি পেতে চলা রাশমিকার সিনেমাগুলির সম্ভাব্য বক্স অফিস কালেকশন এক করলে তা সহজেই ১,৩০০ কোটি রুপির মাইলফলক স্পর্শ করতে পারে। আয়ের নিরিখে চলতি বছর অন্য কোনো অভিনেত্রীর এত বড় এবং বৈচিত্র্যময় সিনেমার line-up নেই।
সাফল্যের নেপথ্যে বহুমুখী প্রতিভা রাশমিকার এই আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ হলো যেকোনো চরিত্রে সহজে মানিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা। ‘গীতা গোবিন্দম’-এর মতো সিনেমায় তিনি হয়ে উঠেছিলেন ‘পাশের বাড়ির মেয়ে’, আবার ‘ডিয়ার কমরেড’-এ একজন নারী ক্রিকেটারের চরিত্রে তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছিল। বলিউডে ‘গুডবাই’-এর মতো সিনেমায় যেমন গ্ল্যামারহীন চরিত্রে দেখা গেছে তাঁকে, তেমনই ‘অ্যানিমেল’-এর মতো সিনেমায় নিজের ‘সুইট গার্ল’ ইমেজ ভেঙে সাহসী দৃশ্যে অভিনয় করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন।
এই মুহূর্তে তাঁর হাতে রয়েছে ‘ককটেল ২’ এবং ‘মাইসা’-র মতো আরও কিছু বড় প্রজেক্ট, যা মুক্তি পাবে আগামী বছর। সব মিলিয়ে, বক্স অফিসের অঙ্কের বিচারে রাশমিকা মান্দানাই যে বর্তমানে ভারতের এক নম্বর নায়িকা, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।