হারলেই হাতছাড়া হবে সিরিজ—এমন কঠিন সমীকরণের চাপে থেকেও দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়াল বাংলাদেশ। চট্টগ্রামের মাটিতে স্নায়ুচাপ সামলে আয়ারল্যান্ডকে ৪ উইকেটে হারিয়ে সিরিজে ১-১ সমতা ফেরাল টাইগাররা। আইরিশদের ছুঁড়ে দেওয়া ১৭০ রানের চ্যালেঞ্জিং টার্গেট তাড়া করতে নেমে অধিনায়ক লিটন কুমার দাসের দায়িত্বশীল ফিফটি এবং পারভেজ হোসেন ইমনের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ২ বল বাকি থাকতেই জয়ের বন্দরে নোঙর করে স্বাগতিকরা।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) চট্টগ্রামের মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে এই ‘ডু-অর-ডাই’ ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় আয়ারল্যান্ড। তবে দিনের শেষ হাসিটা হাসল বাংলাদেশই।
চ্যালেঞ্জিং রান তাড়ায় লিটন-ইমনের দৃঢ়তা
১৭০ রানের লড়াকু লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই হোঁচট খায় বাংলাদেশ। দলীয় ২৬ রানের মাথায় মাত্র ১০ বলে ৭ রান করে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। তবে শুরুর এই ধাক্কা সামলে নেন পারভেজ হোসেন ইমন এবং অধিনায়ক লিটন দাস। ক্রিজে নেমে ইমন একপ্রান্ত আগলে রেখে রানের চাকা সচল রাখেন, আর তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন লিটন।
দ্বিতীয় উইকেটে এই দুই ব্যাটার গড়ে তোলেন ৬০ রানের এক কার্যকরী পার্টনারশিপ। ইমনের ব্যাট থেকে আসে ২৮ বলে ৪৩ রানের একটি ঝকঝকে ইনিংস। তিনি ফিরলে ক্রিজে আসেন সাইফ হাসান। তৃতীয় উইকেটে সাইফকে নিয়ে ৫২ রানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন লিটন দাস। অধিনায়কোচিত ব্যাটিংয়ে তুলে নেন দুর্দান্ত এক হাফ-সেঞ্চুরি।
তবে জয়ের খুব কাছে গিয়ে কিছুটা নাটকীয়তার জন্ম দেয় বাংলাদেশ। ১৭ বলে ২২ রান করে ডেলানির বলে আউট হন সাইফ হাসান। এরপর তাওহীদ হৃদয় রানআউট এবং উইকেটরক্ষক নুরুল হোসেন সোহান (৫) দ্রুত ফিরলে কিছুটা চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। তবে শেষ পর্যন্ত আর কোনো অঘটন ঘটতে দেননি ‘ফিনিশার’ এর ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও শেখ মেহেদি হাসান। সাইফউদ্দিনের অপরাজিত ৭ বলে ১৭ এবং মেহেদির ৩ বলে ৬ রানের ক্যামিও ইনিংসে ভর করে ৪ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।
আইরিশদের উড়ন্ত সূচনা ও মেহেদির স্পিন-বিষ
এর আগে, ম্যাচের শুরুতে ব্যাট করতে নেমে আয়ারল্যান্ড পায় স্বপ্নের মতো এক সূচনা। পল স্টার্লিং এবং টিম টেক্টরের ব্যাটে চড়ে পাওয়ার প্লে-তেই স্কোরবোর্ডে ১ উইকেটে ৭৫ রান যোগ করে সফরকারীরা। তানজিম হাসান সাকিব ১৪ বলে ২৯ রান করা স্টার্লিংকে ফিরিয়ে প্রথম ব্রেক থ্রু এনে দেন।
এরপর আইরিশদের রানের গতিতে লাগাম টানেন স্পিনার শেখ মেহেদি হাসান। নবম ওভারে বোলিংয়ে এসে জোড়া আঘাত হেনে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের দিকে ঘুরিয়ে দেন তিনি। পপিং ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে খেলতে গিয়ে স্টাম্পড হন ২৫ বলে ৩৮ রান করা টিম টেক্টর। একই ওভারে হ্যারি টেক্টরকে বোল্ড করে সাজঘরে পাঠান মেহেদি।
মিডল অর্ডারে লকরান টাকার কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। জর্জ ডকরেলকে সঙ্গে নিয়ে পঞ্চম উইকেটে ৪৪ বলে ৫৬ রানের জুটি গড়েন তিনি। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। সাইফউদ্দিনের বলে ১৮ রান করে ডকরেল ফিরলে এই জুটি ভাঙে। ইনিংসের শেষ বলে রানআউটের শিকার হন ৩২ বলে ৪১ রান করা লকরান টাকার। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৭০ রানের পুঁজি পায় আয়ারল্যান্ড।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে শেখ মেহেদি হাসান ছিলেন উজ্জ্বল, তুলে নেন ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। এছাড়া তানজিম হাসান সাকিব ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন একটি করে উইকেট শিকার করেন।