চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আর্সেনালের কাছে হারের দগদগে ক্ষত নিয়ে বুন্দেসলিগার মাঠে নেমেছিল বায়ার্ন মিউনিখ। প্রতিপক্ষ তুলনামূলক দুর্বল সেন্ট পাউলি। কিন্তু আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাতে যে নাটক অপেক্ষা করছিল, তার জন্য প্রস্তুত ছিল না খোদ স্বাগতিক সমর্থকরাও। নির্ধারিত ৯০ মিনিট পর্যন্ত পয়েন্ট হারানোর শঙ্কায় ধুঁকতে থাকা বায়ার্ন শেষ পর্যন্ত ইনজুরি টাইমের (Injury Time) জাদুতে ৩-১ গোলের অবিস্মরণীয় জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে। এই জয়ে লিগ টেবিলে নিজেদের শীর্ষস্থান আরও সুসংহত করল ভিনসেন্ট কোম্পানির (কোচ যদি বর্তমান থাকেন বা অনুমান করা হয়, তবে টেক্সটে কোচের নাম না থাকাই শ্রেয়, তাই 'জার্মান জায়ান্টরা' ব্যবহার করা হবে) শিষ্যরা।
শুরুতেই ধাক্কা ও প্রথমার্ধের লড়াই
ঘরের মাঠে ফেভারিট হিসেবে নামলেও ম্যাচের মাত্র ষষ্ঠ মিনিটেই বড় ধাক্কা খায় বায়ার্ন। সেন্ট পাউলির ফরোয়ার্ড আন্দ্রেয়াস হাউন্টনজির আচমকা গোলে স্তব্ধ হয়ে যায় আলিয়াঞ্জ অ্যারেনা। ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর অবশ্য ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে বায়ার্ন। বল পজেশন (Ball Possession) এবং একের পর এক আক্রমণে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত করে তোলে তারা। অবশেষে প্রথমার্ধের বাঁশি বাজার ঠিক আগ মুহূর্তে স্বস্তি ফেরে বায়ার্ন শিবিরে। রাফায়েল গেরেইরোর দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে ১-১ সমতায় থেকে বিরতিতে যায় দুই দল।
ম্যাচজুড়ে আধিপত্য ও ডেডলক
বিরতির পর ম্যাচের চিত্রনাট্য ছিল একপেশে। বায়ার্ন পুরোটা সময় বল দখলে রেখে সেন্ট পাউলির ডি-বক্সে আক্রমণ শানালেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ যেন চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বায়ার্নের ডাগআউটে টেনশন বাড়ছিল। মনে হচ্ছিল, আর্সেনালের পর এবার লিগেও পয়েন্ট খোয়াতে যাচ্ছে বাভারিয়ানরা।
ইনজুরি টাইমের নাটকীয় ‘ক্লাইম্যাক্স’
ম্যাচ যখন নিশ্চিত ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই দৃশ্যপটে আসেন লুইস দিয়াস। যোগ করা সময়ের (Added Time) তৃতীয় মিনিটে কলম্বিয়ান এই উইঙ্গারের দুর্দান্ত হেডে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় বায়ার্ন। স্টেডিয়ামজুড়ে তখন বাঁধভাঙা উল্লাস। তবে নাটকের তখনও বাকি ছিল। এই গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই, মাত্র চার মিনিট পর (৯০+৭ মিনিট) সেনেগালিজ ফরোয়ার্ড নিকোলাস জ্যাকসন ব্যবধান ৩-১ করেন। তার এই গোলেই বায়ার্নের পূর্ণ ৩ পয়েন্ট নিশ্চিত হয়।
পয়েন্ট টেবিলের সমীকরণ
এই কষ্টার্জিত জয়ে বুন্দেসলিগার (Bundesliga) পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখল বায়ার্ন মিউনিখ। ১২ ম্যাচ শেষে ১১ জয় ও মাত্র ১ ড্রয়ে তাদের সংগ্রহ এখন ৩৪ পয়েন্ট। সমান সংখ্যক ম্যাচ খেলে ২৬ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আরবি লাইপজিগ।
ডর্টমুন্ডের জয়
রাতের অন্য একটি হাইভোল্টেজ ম্যাচে (High Voltage Match) লেভারকুসেনের মাঠে ২-১ গোলের গুরুত্বপূর্ণ জয় পেয়েছে বরুসিয়া ডর্টমুন্ড। এই জয়ের ফলে ১২ ম্যাচে ২৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে ‘দ্য ব্ল্যাক অ্যান্ড ইয়োলো’রা। শিরোপা দৌড়ে বায়ার্ন এগিয়ে থাকলেও ডর্টমুন্ড এবং লাইপজিগ যে সহজে হাল ছাড়বে না, তা স্পষ্ট।