চলতি নভেম্বর মাসের প্রথম ২৯ দিনে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) মাধ্যমে যুক্ত হয়েছে ২৬৮ কোটি ১১ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত এই প্রবাহ যখন গতিশীল, তখন একই সঙ্গে উঠে এসেছে এক ভিন্ন চিত্র: এই সময়ের মধ্যে দেশের ৮টি ব্যাংকে কোনো রেমিট্যান্সের আগমণ ঘটেনি। যার মধ্যে সরকারি মালিকানাধীন ব্যাংকও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন (Report) বিশ্লেষণ করে রোববার (৩০ নভেম্বর) এই তথ্য জানা যায়। শীর্ষস্থানীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত এই Data অর্থনৈতিক খাতে একটি মিশ্র পরিস্থিতিকে তুলে ধরছে।
নভেম্বরের ২৯ দিনে মোট আয় ও প্রধান চালক
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মাসের প্রায় পুরোটা সময়ে দেশে আসা মোট ২৬৮ কোটি ১১ লাখ ৩০ হাজার ডলারের রেমিট্যান্সের প্রধান চালক ছিল বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো।
বেসরকারি ব্যাংক: এই খাতের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে দেশে এসেছে ১৮৭ কোটি ৯০ লাখ ৭০ হাজার ডলার। এই বিশাল অংকটিই স্পষ্ট করে যে, প্রবাসী আয় বিতরণে বেসরকারি খাতই সবচেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য ও শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে।
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক: রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সম্মিলিত অবদান ৫১ কোটি ৬৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার।
বিশেষায়িত ব্যাংক: বিশেষায়িত খাতের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ২৭ কোটি ৯৫ লাখ ৭০ হাজার ডলার।
বিদেশি ব্যাংক: বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল সবচেয়ে কম, মাত্র ৫৫ লাখ ৫০ হাজার ডলার।
শূন্য রেমিট্যান্স প্রাপ্ত ব্যাংকগুলোর তালিকা
যে ৮টি ব্যাংকে এই ২৯ দিনে রেমিট্যান্স আসেনি, তার মধ্যে রয়েছে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক, একটি বিশেষায়িত ব্যাংক, দুটি বেসরকারি ব্যাংক এবং চারটি বিদেশি ব্যাংক। ব্যাংকিং নেটওয়ার্কের কার্যকারিতা ও প্রবাসীদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে এই ব্যাংকগুলোর পিছিয়ে পড়া অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের নজরে এসেছে।
রেমিট্যান্স শূন্য থাকা ব্যাংকগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক: বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বা বিডিবিএল (BDBL)।
বিশেষায়িত ব্যাংক: রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক বা রাকাব (RAKAB)।
বেসরকারি খাতের ব্যাংক: কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি (Community Bank Bangladesh PLC), পদ্মা ব্যাংক পিএলসি (Padma Bank PLC) এবং আইসিবি ইসলামী ব্যাংক।
বিদেশি খাতের ব্যাংক: ব্যাংক আল ফারাহ (Bank Al Farrah), হাবিব ব্যাংক (Habib Bank), ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান এবং স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (State Bank of India)।
মাসভিত্তিক এবং বার্ষিক আয়ের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
নভেম্বর মাসের এই শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ দেশের অর্থনীতিতে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ইঙ্গিত দিচ্ছে। নভেম্বরের শেষ সপ্তাহের (২৩ থেকে ২৯ নভেম্বর) Data অনুযায়ী, প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৫৪ কোটি ৬১ লাখ ৪০ হাজার ডলার। এর আগের সপ্তাহগুলোতে (৯ থেকে ১৫ নভেম্বর) এই পরিমাণ ছিল ৭৬ কোটি ৮৪ লাখ ৮০ হাজার ডলার, যা মাসের সর্বোচ্চ সাপ্তাহিক প্রবাহ।
তুলনামূলকভাবে, সদ্য শেষ হওয়া গত অক্টোবর মাসে দেশে এসেছিল ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার এবং সেপ্টেম্বরে এসেছিল ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার। চলতি নভেম্বর মাসের ২৯ দিনের আয় সেপ্টেম্বরের কাছাকাছি এবং অক্টোবরের মোট আয়কে ইতোমধ্যে ছাড়িয়ে গেছে।
প্রসঙ্গত, দেশের ইতিহাসে যেকোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরের সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ডটি স্থাপিত হয়েছে বিগত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে, যখন প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছিলেন মোট ৩০.৩২ বিলিয়ন (৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ) মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। বর্তমান প্রবাহ বজায় থাকলে, চলমান অর্থবছরেও এই উচ্চমান ধরে রাখা সম্ভব বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।