'কৃতির নতুন রূপে মুগ্ধ দক্ষিণী দর্শক
সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত ধানুশের বিপরীতে অ্যাকশনধর্মী চলচ্চিত্র 'তেরে ইশক মে'-তে বলিউড অভিনেত্রী কৃতি শ্যাননের (Kriti Sanon) উপস্থিতি দক্ষিণী সিনেপ্রেমীদের হৃদয়ে এক মুহূর্তেই জায়গা করে নিয়েছে। ছবিটি মুক্তির আগ পর্যন্ত বলিউড (Bollywood) ও দক্ষিণী বিনোদন অঙ্গনে (South Indian Film Industry) অনেকের মনেই সংশয় ছিল যে, এতটা অ্যাকশন-অরিয়েন্টেড (Action-oriented) চরিত্রে কৃতি নিজেকে আদৌ খাপ খাইয়ে নিতে পারবেন কি না।
কিন্তু পর্দায় তাঁর প্রথম প্রবেশেই সমস্ত সমীকরণ বদলে যায়। চোখের তীক্ষ্ণ দৃঢ়তা, নিখুঁত স্টান্ট (Stunt) এবং আবেগের বিস্ফোরণে তিনি যেন ভেঙে দেন সব সংশয়ের দেয়াল। সমালোচকেরা (Critics) স্তব্ধ, দর্শকেরা মুগ্ধ—এ যেন কৃতির অভিনয়জীবনের নতুন এক উত্থানের ঘোষণা। ধানুশের (Dhanush) বিপরীতে এই সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন আনন্দ এল রাই। ছবিতে প্রকাশ রাজ, মাহির মহিউদ্দিন, সুশীল দাহিয়াসহ আরও অনেকে অভিনয় করেছেন।
'লেডি কবীর সিংহ' উপাধি ও 'নেপোকিড' বিতর্ক
এই ছবির সাফল্যে দক্ষিণী দর্শকদের মধ্যে নতুন করে এক বিতর্ক মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, ছবি দেখার পর থেকেই দর্শকেরা কৃতির অভিনয়ের ভূয়সী প্রশংসা করে বলিউডের 'নেপোকিড' (Nepokid) বিতর্কটিকে আবার সামনে এনেছেন। দর্শকদের দাবি, স্বজনপ্রীতির (Nepotism) কারণে বলিউডের অনেক ভালো অভিনেত্রীই যোগ্য ছবিতে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ পান না।
অনেকেই কৃতিকে 'লেডি কবীর সিংহ' (Lady Kabir Singh) চরিত্রে নিখুঁত আখ্যা দিয়েছেন। এমনকি এমনও বলতে শোনা যায় যে, এই ছবিতে অভিনয় করে কৃতি প্রমাণ করেছেন, তিনি আলিয়া ভাটের (Alia Bhatt) থেকেও ভালো অভিনেত্রী, কিন্তু সঠিক সুযোগ না পাওয়ায় হয়তো নিজেকে প্রমাণ করতে পারেন না। এই মন্তব্যের জেরে বলিউড ইন্ডাস্ট্রির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি (Internal Politics) নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
আবেগে আপ্লুত নায়িকা ও ঝুঁকি নেওয়ার স্বীকারোক্তি
দর্শকের ভালোবাসায় নায়িকা কৃতি শ্যানন নিজেও আবেগে আপ্লুত (Overwhelmed)। ভক্তদের ধন্যবাদ জানিয়ে নিজের সোশ্যাল হ্যান্ডেল ইনস্টাগ্রামে (Instagram) তিনি লিখেছেন, "নিজেকে ছড়িয়ে না দিলে, নতুন ঝুঁকি না নিলে নিজেকে প্রমাণ করা যায় না। এই ছবিতে সে সবই করার চেষ্টা করেছি। দর্শককে ধন্যবাদ। তাদের আমার কাজ ভালো লেগেছে।"
তবে দর্শকের তোলা 'স্বজনপ্রীতির' অভিযোগটি তিনি সযত্নে এড়িয়ে গিয়েছেন। অভিনেত্রী তাঁর পোস্টে শুধু কাজের প্রতি মনোযোগ এবং নতুন ঝুঁকি (Risk) নেওয়ার মানসিকতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। 'তেরে ইশক মে'-তে কৃতির এই পারফরম্যান্স নিঃসন্দেহে তাঁর কেরিয়ারে একটি টার্নিং পয়েন্ট (Turning Point) হিসেবে গণ্য হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।