• খেলা
  • মেসির জাদুতে এমএলএস কাপ জয় ইন্টার মায়ামির, মোটা অঙ্কের ‘প্রাইজমানি’ পেল ক্লাব

মেসির জাদুতে এমএলএস কাপ জয় ইন্টার মায়ামির, মোটা অঙ্কের ‘প্রাইজমানি’ পেল ক্লাব

খেলা ১ মিনিট পড়া
মেসির জাদুতে এমএলএস কাপ জয় ইন্টার মায়ামির, মোটা অঙ্কের ‘প্রাইজমানি’ পেল ক্লাব

ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপসকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল ‘দ্য হেরনস’রা; এক নজরে দেখে নেওয়া যাক মেজর লিগ সকার চ্যাম্পিয়নদের আর্থিক প্রাপ্তির খতিয়ান

ফুটবল বিশ্বের ধ্রুবতারা তিনি। লিওনেল মেসি যেখানে পা রাখেন, সেখানেই যেন নতুন করে লেখা হয় ইতিহাসের পাতা। আটলান্টিকের ওপারে পাড়ি জমিয়েও সেই চিরচেনা চিত্রনাট্যই মঞ্চস্থ করলেন এই আর্জেন্টাইন জাদুকর। তার হাত ধরেই বদলে গেল যুক্তরাষ্ট্রের সকার মানচিত্র। যে স্বপ্ন নিয়ে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’-এর এই মহানায়ককে দলে ভিড়িয়েছিল ডেভিড বেকহ্যামের দল, তা আজ পূর্ণতা পেল। প্রথমবারের মতো সম্মানজনক এমএলএস কাপ (MLS Cup) ঘরে তুলল ইন্টার মায়ামি।

তবে মাঠের এই আকাশচুম্বী সাফল্যের পাশাপাশি ক্লাবের কোষাগারেও যুক্ত হয়েছে মোটা অঙ্কের অর্থ। শিরোপা জয়ের গৌরব আর আর্থিক সমৃদ্ধি—দুইয়ে মিলে ইন্টার মায়ামির জন্য এই মৌসুমটি হয়ে রইল এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

চ্যাম্পিয়ন মায়ামি: ইতিহাসের নতুন অধ্যায়

গত রোববার (৭ ডিসেম্বর) চেজ স্টেডিয়ামে এক জমকালো ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল ইন্টার মায়ামি এবং ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপস। পুরো ম্যাচজুড়েই ছিল মায়ামির আধিপত্য। শেষ বাঁশি বাজার পর স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৩-১, আর সেই সঙ্গে নিশ্চিত হয় মায়ামির ঐতিহাসিক জয়।

মেজর লিগ সকার বা এমএলএস-এর ইতিহাসে এই প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করল ফ্লোরিডার এই ক্লাবটি। গ্যালারিভর্তি দর্শক আর কোটি ভক্তের উল্লাসের মধ্য দিয়ে যখন ট্রফি উঁচিয়ে ধরা হলো, তখন তা কেবল একটি শিরোপা জয় ছিল না; এটি ছিল আমেরিকান ফুটবলে মেসির রাজত্ব প্রতিষ্ঠার এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণা।

চ্যাম্পিয়নদের জন্য মোটা অঙ্কের ‘প্রাইজমানি’

মাঠের লড়াইয়ে বিজয়ী হওয়ার পর সবার কৌতূহল ছিল—এই জয়ে আর্থিকভাবে কতটা লাভবান হলো মেসিবাহিনী? এমএলএস কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ অফিশিয়াল প্লে-অফ (Play-off) পুরস্কারের কাঠামো অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এমএলএস কাপ জয়ী দলের জন্য বরাদ্দ ছিল আকর্ষণীয় প্রাইজমানি।

চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ইন্টার মায়ামি পকেটে পুরেছে ৩ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকার সমান। কেবল চ্যাম্পিয়নরাই নয়, রানার্সআপ দল হিসেবে ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপস পেয়েছে দেড় লাখ মার্কিন ডলার। যদিও ইউরোপিয়ান ফুটবলের তুলনায় এই অঙ্ক কিছুটা কম মনে হতে পারে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের স্পোর্টস কালচার এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি (Franchise) মডেলের প্রেক্ষাপটে এটি ক্লাবের জন্য অত্যন্ত সম্মানজনক ও গুরুত্বপূর্ণ।

প্লে-অফ ও অন্যান্য দলের প্রাপ্তি

এমএলএস-এর আর্থিক কাঠামো এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে প্রতিযোগিতার প্রতিটি ধাপে দলগুলো পুরস্কৃত হয়। ফাইনালিস্টদের বাইরেও যারা প্লে-অফের বিভিন্ন রাউন্ডে ভালো পারফর্ম করেছে, তাদের জন্যও ছিল ডলারের ঝনঝনানি।

কনফারেন্স ফাইনালিস্ট: কনফারেন্স ফাইনালে হেরে যাওয়া দলগুলো পেয়েছে ১ লাখ মার্কিন ডলার করে।

সেমিফাইনালিস্ট: কনফারেন্স সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলোর প্রাপ্তি ৪৭ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার।

এই কাঠামো নিশ্চিত করে যে, লিগের প্রতিটি স্তরেই প্রতিযোগিতার আমেজ বজায় থাকে এবং ক্লাবগুলো আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ পায়।

ক্লাবের ভবিষ্যৎ ও আর্থিক স্থায়িত্ব

এমএলএস কাপ জয় মানে শুধুই একটি ট্রফি কেবিনেটে সাজিয়ে রাখা নয়। এই শিরোপার সঙ্গে যুক্ত ‘প্রাইজমানি’ এবং ব্র্যান্ড ভ্যালু বৃদ্ধি ক্লাবগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়তা করে। বিশেষ করে ইন্টার মায়ামির মতো ফ্র্যাঞ্চাইজি, যারা বিশ্বসেরা তারকাদের নিয়ে একটি ‘গ্লোবাল ব্র্যান্ড’ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে, তাদের জন্য এই অর্থ ও সম্মান দুই-ই জরুরি।

এই অতিরিক্ত আয় ক্লাবগুলোকে তাদের অবকাঠামো উন্নয়ন, স্কাউটিং এবং নতুন প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের দলে ভেড়ানোর (Recruitment) ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি, বর্তমান তারকাদের ধরে রাখা এবং স্কোয়াডের গভীরতা বাড়ানোর জন্য এই ‘ফিন্যান্সিয়াল বুস্ট’ অত্যন্ত কার্যকরী।

মেসির জাদুকরী পারফরম্যান্স আর ক্লাবের এই আর্থিক সাফল্য—সব মিলিয়ে ইন্টার মায়ামি এখন যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলে এক নতুন পরাশক্তি। এমএলএস কাপ জয় কেবল একটি শুরু, যা ভবিষ্যতে ক্লাবটিকে আরও বড় সাফল্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।

Tags: football news lionel messi inter miami mls cup mls champion prize money sports economy vancouver whitecaps us football financial reward