বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার কৌশলগত সম্পর্ক এবং সামরিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে ঢাকায় শুরু হয়েছে দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সংলাপের (Bilateral Defense Dialogue) ১২তম আসর। আজ ১০ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি চলবে আগামীকাল ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ঢাকার সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে আয়োজিত এই সংলাপে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর শীর্ষ প্রতিনিধিরা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে গভীর আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন।
আলোচনার টেবিলে নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি
বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে এবারের সংলাপটিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। আয়োজক সূত্র জানিয়েছে, দুদিনব্যাপী এই নিবিড় আলোচনায় বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার (Regional Security) বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি, আধুনিক সামরিকায়নের যুগে ‘Defense Technology’ বা প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির আদান-প্রদান, অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহ এবং রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
এর বাইরেও দুর্যোগ মোকাবিলা (Disaster Management) ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে (Peacekeeping Operations) যৌথ অংশগ্রহণ, সামরিক প্রশিক্ষণ, পরিদর্শন, এবং ‘Joint Exercise’ বা যৌথ মহড়ার মতো বিষয়গুলো আলোচনার এজেন্ডায় প্রাধান্য পাচ্ছে। দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে কর্মশালা আয়োজন এবং পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির নানা দিক নিয়েও মতবিনিময় করা হবে।
নেতৃত্বে কারা?
উভয় দেশের প্রতিনিধিদলেই উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তারা রয়েছেন। সংলাপে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের অপারেশন্স ও পরিকল্পনা পরিদফতরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ আলী হায়দার সিদ্দিকী। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ডের পরিকল্পনাবিষয়ক উপ-পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সারাহ রুস।
শুধু সামরিক বাহিনীই নয়, প্রতিরক্ষা খাতের এই সমন্বিত সংলাপে বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অংশ নিচ্ছেন। এটি দুই দেশের মধ্যে একটি ‘Whole-of-Government Approach’ বা সর্বাত্মক সরকারি সমন্বয়ের ইঙ্গিত বহন করে।
সম্পর্কের নতুন দিগন্ত
কূটনৈতিক ও সামরিক সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সংলাপের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। বিশেষ করে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সন্ত্রাসবাদ দমনে দুই দেশের যৌথ প্রচেষ্টা আরও বেগবান হবে। নিয়মিত এই সংলাপ দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে আন্তঃকার্যকারিতা (Interoperability) বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদী অংশীদারিত্বের ভিত্তি মজবুত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আগামীকাল ১১ ডিসেম্বর এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে, যেখানে ভবিষ্যতের সহযোগিতার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা বা রোডম্যাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।