আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে উত্তপ্ত রাজনীতির মাঠ। এরই মধ্যে শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগরে দিনের আলোয় ঘটে গেল এক ন্যাক্কারজনক ঘটনা। ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর অতর্কিত গুলি চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা এই তরুণ নেতার ওপর হামলার ঘটনায় শোকে ও ক্ষোভে ফেটে পড়েছে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শোবিজ অঙ্গনের তারকারা।
বিশেষ করে, তরুণ প্রজন্মের আইকন সংগীতশিল্পী তাসরিফ খান ও অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমক ‘Social Media’-তে যে প্রতিবাদী বার্তা দিয়েছেন, তা এখন নেটদুনিয়ায় ভাইরাল।
রক্তাক্ত বিজয়নগর ও হাদির ‘Critical Condition’
শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট এলাকায় হাদির ওপর এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (DMCH) নেওয়া হলেও পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় দ্রুত তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাদির অবস্থা এখনো ‘Critical’; চিকিৎসকরা তাঁকে বাঁচাতে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
তাসরিফের এক বাক্যের বজ্রকঠিন প্রতিবাদ
জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী তাসরিফ খান, যিনি গানের পাশাপাশি মানবিক সহায়তা ও সমাজসেবার জন্য তরুণদের কাছে এক আস্থার প্রতীক, তিনি এই ঘটনায় নীরব থাকতে পারেননি। রাজনীতি সচেতন এই শিল্পী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে হাদির ওপর হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছেন অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত অথচ শক্তিশালী ভাষায়।
তিনি লিখেছেন, “গুলি করে ইনসাফ হত্যা করা যায় না।” তাসরিফের এই একটি বাক্যেই যেন লুকিয়ে আছে হাজারো মানুষের মনের কথা। কোনো রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ না করেও তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, বুলেটের আঘাত দিয়ে ন্যায়বিচারের কণ্ঠস্বর বা ‘Voice of Justice’ রোধ করা যায় না। তাঁর এই পোস্ট মুহূর্তেই হাজার হাজার শেয়ার হয়েছে।
চমকের স্ট্যাটাসে ‘Declaration of War’
অন্যদিকে, ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমক হাদির সমর্থনে দিয়েছেন এক আবেগময় ও বিপ্লবী স্ট্যাটাস। তিনি লিখেছেন, “হাদি হয়তো ফিরবে, আরও জোরালো গর্জনে। আর যদি না ফেরে, তার নামটাই হয়ে যাবে নতুন প্রজন্মের যুদ্ধ ঘোষণা।”
চমকের এই লেখনীতে স্পষ্টতই ফুটে উঠেছে যে, হাদি কেবল একজন ব্যক্তি নন, বরং তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। তাঁর ওপর এই হামলা নতুন প্রজন্মকে ভীত করার বদলে আরও বেশি প্রতিবাদী করে তুলবে বলে মনে করছেন নেটিজেনরা।
নেপথ্যে ছিল প্রাণনাশের হুমকি ও ‘Cyber Threat’
হাদির ওপর এই হামলা যে আকস্মিক নয়, বরং পূর্বপরিকল্পিত—তার ইঙ্গিত মিলেছিল গত মাসেই। নভেম্বরেই এক ফেসবুক লাইভে ও পোস্টে হাদি জানিয়েছিলেন, দেশি-বিদেশি মিলিয়ে অন্তত ৩০টি ‘Anonymous Number’ থেকে তাঁকে ক্রমাগত হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
১৪ নভেম্বরের সেই পোস্টে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, “গত তিন ঘণ্টায় আমার নম্বরে আওয়ামী লীগের খুনিরা অন্তত ৩০টা বিদেশি নম্বর থেকে কল ও টেক্সট করেছে। যার সামারি হলো—আমাকে সর্বক্ষণ ‘Surveillance’ বা নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। তারা আমার বাড়িতে আগুন দেবে, আমার মা-বোন ও স্ত্রীকে ধর্ষণ করবে এবং আমাকে হত্যা করবে।”
দুর্ভাগ্যবশত, সেই আশঙ্কাই আজ বাস্তবে রূপ নিল। হাদির ওপর এই হামলার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও প্রার্থীদের নিরাপত্তা বা ‘Security Protocol’ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন কতটা দ্রুত এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনতে পারে।