কোর্ট-কাচারি আর বাদ পড়া সিনেমার জটিলতা
মাহিমা চৌধুরী জানান, তাঁর প্রথম সিনেমা 'পরদেশ'-এর অভাবনীয় সাফল্যের পরেও তাঁকে একাধিক পেশাগত সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। একটি ভারতীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমার প্রথম সিনেমার পর আমাকে কোর্টে নেওয়া হয়েছিল। অনেক সিনেমা থেকে আমাকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল, আমি মুক্তার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ, যা সত্যি ছিল না।” চুক্তি সংক্রান্ত এই বিভ্রান্তির কারণেই তাঁকে ভয়াবহভাবে পেশাগত সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। এরপরই তাঁর জীবনে আসে সেই কঠিন অধ্যায় – সড়ক দুর্ঘটনা।
মুখমণ্ডলে ৬৭টি কাচের টুকরো: ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা
'দিল কেয়া করে' সিনেমার শুটিং চলাকালীন মাহিমা চৌধুরী এক মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন। এতে তাঁর মুখে গুরুতর আঘাত লাগে। সেই সময়ের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে অভিনেত্রী বলেন, “আমার মুখে ৬৭টি ছোট কাচের টুকরো ঢুকে গিয়েছিল, মাইক্রোস্কোপের সাহায্য নিয়ে এসব বের করতে হয়েছিল। দুর্ঘটনার পরের দিন মুখ আরও ফুলে যায় এবং বিকৃত দেখাচ্ছিল।” দুর্ঘটনার পর তাঁর মুখমণ্ডল সেলাই ও স্ট্যাপল করা ছিল এবং প্রায় এক বছর তাঁকে গৃহবন্দী থাকতে হয়। তিনি বলেন, রোদে বেরোনো নিষেধ ছিল এবং তাঁর ঘর সব সময় অন্ধকার থাকত। এমনকি, আঘাত দেখে বন্ধুরা তাঁকে ভুল বুঝতো। ২০২০ সালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাহিমা বলেছিলেন যে সেই সময় তাঁর মনে হচ্ছিল তিনি মারা যাবেন এবং তাঁকে কেউ সাহায্যও করেনি। মা ও অভিনেতা অজয় দেবগন পরে হাসপাতালে আসেন।
'লাকি ম্যাসকট' থেকে প্রত্যাবর্তনের লড়াই
বিরতির পর যখন মাহিমা আবার কাজে ফেরেন, তখন নির্মাতারা তাঁকে ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব দিতে শুরু করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি তখন ছোটখাটো চরিত্রে কাজ করতে শুরু করি। আর সেই সব সিনেমা হিট হয়ে যায়। এমনকি, শুধু একটা গানের দৃশ্যেও অভিনয় করতাম।” তাঁকে 'লাকি ম্যাসকট' বলা হলেও তিনি আরও অনেক কিছু করতে চেয়েছিলেন। যখন তাঁকে শুধু গানের জন্য প্রস্তাব দেওয়া শুরু হয়, তখন তিনি সেগুলো প্রত্যাখ্যান করেন।
মাহিমা চৌধুরীর চলচ্চিত্র জীবন
শাহরুখ খানের বিপরীতে ১৯৯৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত সুভাষ ঘাই পরিচালিত 'পরদেশ' সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে অভিষেক ঘটেছিল মাহিমা চৌধুরীর। এরপর তিনি 'দাগ: দ্য ফায়ার', 'পেয়া কই খেল নেহি', 'দিওয়ানে', 'কুরুক্ষেত্র'-এর মতো অনেক জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করেছেন। চলতি বছরে তাঁর অভিনীত 'ইমার্জেন্সি' এবং 'নাদানিয়া' সিনেমা দুটি মুক্তি পেয়েছে। বর্তমানে তিনি রোমান্টিক-কমেডি ঘরানার সিনেমা 'দুর্লভ প্রসাদ কি দুসরি শাদি'-এর কাজ নিয়ে ব্যস্ত, যা আগামী ১৯ ডিসেম্বর মুক্তি পাওয়ার কথা।