• বিনোদন
  • 'অন্ধ ভক্তের' অ্যাসিড মামলার মোড় ঘুরল: সিআইডির তদন্তে নির্দোষ ডিপজল, প্রকাশ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য

'অন্ধ ভক্তের' অ্যাসিড মামলার মোড় ঘুরল: সিআইডির তদন্তে নির্দোষ ডিপজল, প্রকাশ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য

বিনোদন ১ মিনিট পড়া
'অন্ধ ভক্তের' অ্যাসিড মামলার মোড় ঘুরল: সিআইডির তদন্তে নির্দোষ ডিপজল, প্রকাশ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য

মোবাইল সিডিআর ও নিরপেক্ষ সাক্ষীদের বয়ানে উঠে এল ভিন্ন চিত্র; আত্মপক্ষ সমর্থনে যা বলছেন সেই তরুণী ও তার আইনজীবী

ঢাকাই চলচ্চিত্রের পর্দা কাঁপানো খল অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজল। রুপালি পর্দায় তাকে ঘিরে দর্শকদের আগ্রহের কমতি নেই, তবে সম্প্রতি এক তরুণী ভক্তের দায়ের করা অ্যাসিড নিক্ষেপ ও মারধরের মামলা ঘিরে বাস্তব জীবনেও তিনি আলোচনায় উঠে এসেছিলেন। নিজেকে ডিপজলের ‘অন্ধ ভক্ত’ দাবি করা ওই তরুণীর আনা গুরুতর অভিযোগগুলো শেষ পর্যন্ত ধোপে টেকেনি পুলিশের তদন্তে। সিআইডির (CID) দীর্ঘ তদন্ত শেষে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে—ডিপজল ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আনা অ্যাসিড নিক্ষেপের অভিযোগের কোনো ‘সত্যতা পাওয়া যায়নি’। বরং তদন্তে উঠে এসেছে এক ‘অন্ধ ভক্তের’ আবেগ, উম্মাদনা এবং সামাজিক হেয় প্রতিপন্ন করার এক চাঞ্চল্যকর চিত্র।

সিআইডি পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সুলতান মাহমুদ গত ২৪ নভেম্বর আদালতে মামলার Final Report (চূড়ান্ত প্রতিবেদন) জমা দিয়েছেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিনেতা ডিপজল এবং তার সহযোগী মো. ফয়সালকে ‘সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন’ (Socially Humiliate) করতেই মূলত এই মামলাটি সাজানো হয়েছিল।

ঘটনাস্থলে অনুপস্থিতি ও মোবাইল সিডিআর প্রযুক্তি

মামলার তদন্তে সিআইডি সনাতন পদ্ধতির পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা নিয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা জানান, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য আসামিদের Mobile CDR (কল ডিটেইলস রেকর্ড) এবং লোকেশন ট্র্যাকিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। প্রযুক্তির বিশ্লেষণে দেখা যায়, মামলার অন্যতম আসামি ও ডিপজলের সহযোগী মো. ফয়সাল ঘটনার দিন গাবতলী এলাকাতেই ছিলেন না। তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে ঘটনাস্থল থেকে বহুদূরে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর বিজয়নগর এলাকায়।

অন্যদিকে, ডিপজলের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল গাবতলী পশুর হাটের হাসিল ঘরে বসে হুকুম দেওয়ার। কিন্তু তদন্তে জানা যায়, গত ১৫ এপ্রিল ডিপজল গাবতলী পশুর হাট ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনকে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। ঘটনার সময় অর্থাৎ ২ জুন, হাটের ইজারা বা পরিচালনার দায়িত্বে ছিল ‘এরফান ট্রেডার্স’, ডিপজল নন। ফলে ঘটনাস্থলে তার উপস্থিতির দাবিটি শুরুতেই প্রশ্নের মুখে পড়ে।

‘অন্ধ ভক্তের’ কান্ড ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান

তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক নাটকীয় ঘটনার বিবরণ। ঘটনার দিন গাবতলী হাটের হাসিল ঘরের সামনে উপস্থিত নিরপেক্ষ সাক্ষী—ছাগল ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ, কসাই শাহিন এবং চা দোকানদার আলমগীরের জবানবন্দি গ্রহণ করে সিআইডি।

সাক্ষীদের বয়ান অনুযায়ী, রাশিদা আক্তার নামের ওই তরুণী সেদিন ডিপজলের সঙ্গে দেখা করতে মরিপিয়া হয়ে ওঠেন। তিনি ভেবেছিলেন হাটের ইজারা ডিপজলের নামেই রয়েছে। হাসিল ঘরের কর্মীরা তাকে বারবার জানান যে ডিপজল সেখানে নেই এবং এই হাট এখন তার নিয়ন্ত্রণে নেই। কিন্তু রাশিদা তা মানতে নারাজ ছিলেন। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে তিনি নিজের কাছে থাকা বোতলের ‘কেরোসিন বা Chemical জাতীয়’ তরল পদার্থ নিজের গায়ে ঢেলে আগুন ধরানোর বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেন। উপস্থিত জনতা তাকে ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ মনে করে নিবৃত্ত করেন এবং ম্যাচ বা লাইটার ছিনিয়ে নেন। তদন্ত কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, ওই সময় ডিপজল বা তার কোনো লোকজন সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।

পারিবারিক অশান্তি ও টিকটক বিতর্ক

পুলিশের তদন্তে বাদীর ব্যক্তিগত জীবনের কিছু অজানা অধ্যায়ও উন্মোচিত হয়েছে। রাশিদার বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি অভিনেতার একজন ‘অন্ধ ভক্ত’। এর আগেও তিনি পরিবারের অমতে এফডিসিতে (FDC) গিয়ে ডিপজলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতেন। এই অন্ধ ভক্তির জেরে তিনি পৈতৃক সূত্রে পাওয়া সম্পত্তি বিক্রি করে ডিপজলের পোস্টার-ফেস্টুন কিনতেন এবং যাতায়াত খরচ মেটাতেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, তার এই অস্বাভাবিক আচরণের কারণে প্রথম স্বামী তাকে তালাক দিতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে পরিবারের অমতে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন। তবে সবচেয়ে বিস্ময়কর তথ্য হলো, অ্যাসিড দগ্ধ হওয়ার অভিযোগে যখন তিনি Burn Institute-এ চিকিৎসাধীন, তখন হাসপাতালের ওয়ার্ডে শুয়েই বাংলা সিনেমার গানের সঙ্গে TikTok ভিডিও বানিয়ে ইন্টারনেটে আপলোড করছিলেন। গুরুতর আহত কোনো ভুক্তভোগীর পক্ষে এমন আচরণ স্বাভাবিক কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে তদন্তে।

বাদীর নারাজি ও সিআইডির বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ

সিআইডির এই চূড়ান্ত প্রতিবেদন মানতে নারাজ মামলার বাদী রাশিদা আক্তার। তার দাবি, পুলিশ তদন্তে Biased (পক্ষপাতদুষ্ট) আচরণ করেছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মেডিকেল সার্টিফিকেট কি মিথ্যা? আমার শরীরে অ্যাসিডের ক্ষত কি মিথ্যা? সিআইডি আমাকে ব্যবহার করে আসামিদের বাঁচিয়ে দিয়েছে।”

রাশিদা অভিযোগ করেন, তদন্ত চলাকালীন তাকে আপস করার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে এবং ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। বাদীপক্ষের আইনজীবী কাইয়ুম হোসেন নয়ন জানিয়েছেন, তারা এই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আদালতে ‘নারাজি’ (Naraji) দাখিল করবেন। আদালত আগামী ১৪ জানুয়ারি নারাজি দাখিলের শুনানির দিন ধার্য করেছেন।

অন্যদিকে, গত ১৩ নভেম্বর রাশিদার স্বামী আব্দুল মজিদ হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ডিপজল ও ফয়সালের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা দায়ের করেছেন। আদালত সেই অভিযোগের তদন্তভার Police Bureau of Investigation (PBI)-এর ওপর ন্যস্ত করেছে। এখন দেখার বিষয়, আইনি লড়াইয়ের এই নতুন ধাপে জল কতদূর গড়ায়।

Tags: police investigation entertainment news viral news dhallywood news bangladesh court crime investigation cid report dipjol case acid attack mobile cdr