রাজধানীর বিজয়নগরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হওয়ার পর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারানো ইনকিলাব মঞ্চের Spokesperson শরীফ ওসমান হাদির মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় একটি বিশেষ ফ্লাইটে তার নিথর দেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বর্তমানে তার মরদেহ রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমঘরে (Mortuary) রাখা হয়েছে।
বিমানবন্দরে শোকাতুর পরিবেশ ও মরদেহ হস্তান্তর
পারিবারিক ও বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, হাদির মরদেহ বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৫৮৫ ফ্লাইটটি শুক্রবার বিকাল ৫টা ৪৮ মিনিটে রানওয়ে স্পর্শ করে। এর আগে বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৩ মিনিটে সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইটটি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। বিমানবন্দরের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর রাত ৮টার দিকে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ বের করা হয়। ৮ নম্বর গেট দিয়ে বের হওয়ার সময় সেখানে উপস্থিত স্বজন ও অনুসারীদের মধ্যে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেখান থেকে সরাসরি তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
বিজয়নগরের সেই নৃশংস হামলা ও চিকিৎসার লড়াই
গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় একটি গণসংযোগ কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে হামলার শিকার হন শরীফ ওসমান হাদি। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, একটি চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে তাকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি বর্ষণ করা হয়। বুলেটটি সরাসরি তার মাথায় বিদ্ধ হলে তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে লুটিয়ে পড়েন।
তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (DMCH) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি অস্ত্রোপচারের পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত লাইফ সাপোর্টের জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার (Advanced Healthcare) প্রয়োজনে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স (Air Ambulance) যোগে তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়েছিল। টানা কয়েকদিন যমে-মানুষে লড়াই করার পর গত বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই তরুণ সংগঠক।
রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে তরুণ প্রজন্মের কাছে বেশ পরিচিত মুখ ছিলেন ওসমান হাদি। তার এই অকাল প্রয়াণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র নিন্দা ও শোকের ঢেউ বয়ে যাচ্ছে। তার অনুসারীরা এই ঘটনাকে একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড (Targeted Killing) হিসেবে দাবি করে দ্রুত বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পরবর্তী পদক্ষেপ ও দাফন
হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমঘর থেকে হাদির মরদেহ কখন তার গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হবে বা জানাজার সময়সূচী সম্পর্কে পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। তবে দলীয় ও পারিবারিক সিদ্ধান্তে শনিবার দাফন সম্পন্ন হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে হাসপাতাল ও বিমানবন্দর এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।