বছরের শেষ ম্যাচে মাঠে নামার আগে কিলিয়ান এমবাপ্পের সামনে সমীকরণ ছিল সহজ—একটি গোল করলেই তিনি স্পর্শ করবেন তার আইডল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর এক অনন্য কীর্তি। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর গ্যালারি ভর্তি দর্শকদের সাক্ষী রেখে ঠিক তাই করে দেখালেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। এমবাপ্পের রেকর্ড গড়া রাত আর জুড বেলিংহ্যামের দারুণ ফিনিশিংয়ে সেভিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে বছর শেষ করল রিয়াল মাদ্রিদ।
বেলিংহ্যামের হেডে ডেডলক ভাঙল রিয়াল
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) ঘরের মাঠে শুরু থেকেই সেভিয়ার ওপর আধিপত্য বিস্তার করে খেলতে থাকে রিয়াল মাদ্রিদ। মাঝমাঠের দখল নিয়ে একের পর এক আক্রমণ সাজাচ্ছিলেন বেলিংহ্যাম ও রদ্রিগোরা। তবে গোলের দেখা পেতে লস ব্লাঙ্কোসদের অপেক্ষা করতে হয় ৩৮ মিনিট পর্যন্ত। ডান প্রান্ত থেকে রদ্রিগোর মাপা ক্রসে বক্সের ভেতর চমৎকার টাইমিংয়ে লাফিয়ে উঠে এক বুলেট হেডে লক্ষ্যভেদ করেন ইংলিশ মিডফিল্ডার জুড বেলিংহ্যাম। ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা।
সেভিয়ার প্রতিরোধ ও কোর্তোয়ার দেয়াল
ম্যাচে ফিরতে দ্বিতীয়ার্ধে মরিয়া হয়ে ওঠে সেভিয়া। আলেক্সিস সানচেজ ও রোমেরোর কয়েকটি জোরালো আক্রমণ রিয়ালের রক্ষণভাগে কাঁপন ধরালেও গোলপোস্টের নিচে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন থিবো কোর্তোয়া। অসাধারণ কিছু সেভ (Save) করে রিয়ালকে গোল হজম থেকে রক্ষা করেন এই বেলজিয়ান গোলরক্ষক। এর মধ্যেই ম্যাচের ৬৮ মিনিটে বড় ধাক্কা খায় সফরকারীরা। বেলিংহ্যামকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড তথা লাল কার্ড (Red Card) দেখে মাঠ ছাড়েন সেভিয়ার ডিফেন্ডার মার্কাও। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া সেভিয়ার ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দেয় রিয়াল।
রোনালদোর রেকর্ডে ভাগ ও এমবাপ্পের রাজকীয় জন্মদিন
এদিন ছিল কিলিয়ান এমবাপ্পের জন্মদিন। নিজের বিশেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে একটি গোলের অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। সেই মাহেন্দ্রক্ষণ আসে ম্যাচের ৮৬ মিনিটে। ডি-বক্সের ভেতর রদ্রিগো ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পটকিক (Spot-kick) থেকে নিখুঁত শটে গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন এমবাপ্পে।
এই গোলের মাধ্যমে একটি পঞ্জিকাবর্ষে (Calendar Year) রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে সর্বোচ্চ ৫৯ গোলের রেকর্ডে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গী হলেন এমবাপ্পে। এর আগে ২০১৩ সালে রিয়ালের হয়ে এক বছরে ৫৯ গোল করার অবিশ্বাস্য রেকর্ড গড়েছিলেন সিআরসেভেন। গোল করার পর রোনালদোর সেই আইকনিক ‘সিউ’ (Siuuu) উদযাপনে মাতেন এমবাপ্পে, যা দর্শকদের উন্মাদনা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়।
পয়েন্ট টেবিলের বর্তমান সমীকরণ
এই জয়ের ফলে লা লিগার শিরোপা লড়াই আরও জমে উঠল। ১৮ ম্যাচে ১৩ জয় ও ৩ ড্রয়ে ৪২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে শাবি আলনসোর রিয়াল মাদ্রিদ। এক ম্যাচ কম খেলা বার্সেলোনা ৪৩ পয়েন্ট নিয়ে এখনও শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। অন্যদিকে ১৭ ম্যাচে ২০ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার নবম স্থানে অবস্থান করছে সেভিয়া।
ম্যাচের পরিসংখ্যানেও রিয়ালের দাপট স্পষ্ট। পুরো ম্যাচে রিয়াল ১৮টি শট নিয়ে ৮টি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়। পাসের নির্ভুলতা এবং বল পজেশনেও (Ball Possession) তারা সেভিয়ার চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে ছিল। বছর শেষে এই জয় রিয়াল ভক্তদের জন্য বাড়তি আনন্দ বয়ে আনল।