ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিভ্রান্তি নিরসন দেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী আফসান আরা বিন্দু তার সৌন্দর্য এবং অভিনয় দক্ষতার মাধ্যমে দর্শকদের মন জয় করেছিলেন। কিন্তু ২০১৪ সালের অক্টোবরে পারিবারিক আয়োজনে বিয়ের পর তিনি অভিনয় থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন। এরপরেই তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নেটি-মহলে নানা রকম গুঞ্জন শুরু হয়। অবশেষে সম্প্রতি দেশীয় গণমাধ্যমের এক পডকাস্টে তিনি তার দাম্পত্য জীবনের সমাপ্তি নিয়ে কথা বলেন।
সঞ্চালকের এক প্রশ্নের জবাবে অভিনেত্রী নিশ্চিত করেন, 'হ্যাঁ, আমার বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে।' কবে এই বিচ্ছেদ হয়েছে, সে প্রসঙ্গে তিনি জানান, তা ছিল ২০২২ সালে। তার বিয়ের অবস্থা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে চলমান বিভ্রান্তির কারণ ব্যাখ্যা করে বিন্দু বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানানোর কারণেই অনেকে এখনো তাকে বিবাহিত মনে করেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, তিনি বিবাহিত নন।
বিচ্ছেদের কারণ এবং দাম্পত্যের সময়কাল বিন্দু আরও বলেন, তার সংসারের সময়টা খুব দীর্ঘ ছিল না, তবে মাঝখানে তাকে দীর্ঘ এক বিচ্ছেদের সময় পার করতে হয়েছে। ২০১৭ সাল থেকেই তারা আলাদা থাকতে শুরু করেন। তবে বিচ্ছেদের কারণ কী ছিল—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কারণ প্রকাশ না করার সিদ্ধান্তের কথা বলেন।
অভিনেত্রীর ভাষ্যমতে, বিষয়টি অন্য একজনের জীবনের সঙ্গে জড়িত। তাই সম্মানের জায়গা থেকেই তিনি এর কারণ ব্যাখ্যা করতে চান না।
অভিনয় থেকে বিরতি এবং ফেরা অভিনয় ছেড়ে দেওয়া প্রসঙ্গে বিন্দু জানান, কাজ থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য তার ওপর কোনো চাপ ছিল না। তিনি নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সংসারে সময় দেওয়ার জন্য। তার মতে, একজন সাধারণ মানুষের মতো পারিবারিক জীবন যাপন করার ইচ্ছা থেকেই এই সিদ্ধান্ত এসেছিল।
২০১৪ সালের অক্টোবরে বিয়ের পর আনুষ্ঠানিকভাবে মিডিয়া ছাড়েন আফসান আরা বিন্দু। দীর্ঘ বিরতির পর ২০১৯ সালে একটি ম্যারাথনে তাকে দেখা গেলেও অভিনয়ে নিয়মিত ফেরেননি। এরপর ২০২২ সালে আরিফিন শুভর সঙ্গে ‘উনিশ২০’ সিনেমায় অভিনয় করলেও এরপর আর তাকে বড় পর্দায় দেখা যায়নি।
উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপের মাধ্যমে মিডিয়ায় পরিচিতি পান বিন্দু। পরে অসংখ্য নাটক ও সিনেমায় কাজ করেন তিনি। তবে ‘দারুচিনি দ্বীপ’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় তার সফল যাত্রা শুরু হয়।