দেশের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যতম, রাজশাহী কলেজ এইচএসসি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন–২০২৫-এর প্রথম দফার ভোট গ্রহণ রাজশাহীতে স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই নির্বাচনকে ঘিরে সর্বোচ্চ ট্রান্সপারেন্সি (Transparency) এবং আস্থার পরিবেশ নিশ্চিত করতে নজিরবিহীন এক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রথম দফার ভোট গ্রহণ শেষে ব্যবহৃত ব্যালট বাক্সগুলো (Ballot Boxes) সিলগালা করে নিরাপত্তার জন্য রাজশাহী নগরের বোয়ালিয়া থানায় সংরক্ষণ (Preservation) করা হয়েছে। এটি একটি এন্টারপ্রাইজ স্ট্যান্ডার্ড (Enterprise Standard) নিরাপত্তা ব্যবস্থার নিদর্শন, যা নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ রাখবে না।
দুই দফায় অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনের প্রথম দফা ভোট গত শুক্রবার রাজশাহী কলেজ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় ও শেষ দফার ভোট গ্রহণ আগামী ২ জানুয়ারি ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে।
৪৬টি পদের বিপরীতে ৮৬ প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা: বিশালাকৃতির ব্যালট
অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী পরিষদের মোট ৪৬টি পদের বিপরীতে এবার দুটি প্যানেল থেকে মোট ৮৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থীদের সংখ্যার আধিক্যের কারণে নির্বাচনে মোট পাঁচটি দীর্ঘ ব্যালট পেপার (Ballot Paper) ব্যবহার করা হয়েছে, যার প্রতিটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২০ ইঞ্চি। এই দীর্ঘ ব্যালট পেপারগুলো নির্বাচনের অর্গানাইজেশনাল (Organizational) জটিলতাকে তুলে ধরে।
নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রাজশাহী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক মহা. হবিবুর রহমান। তিনি জানান, ভোটের ইন্টিগ্রিটি (Integrity) নিয়ে যেন কোনো মহলের বিন্দুমাত্র সন্দেহ না থাকে, সে জন্যই ব্যালট বাক্সগুলো সিলগালা করে সরাসরি থানায় রাখা হয়েছে। এই পদক্ষেপ অ্যালামনাই নির্বাচনের ইতিহাসে একটি বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।
ভোটারদের অবস্থান ও দ্বিতীয় দফার ভোট
এবারের নির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যা ১ হাজার ৬৩১ জন। এর মধ্যে রাজশাহীতে প্রথম দফায় ভোট দিয়েছেন ৬৯৮ জন। ঢাকা অঞ্চলের ভোটার সংখ্যা ৫৯১ জন। বাকি ভোটাররা সিলেট, চট্টগ্রামসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের। আগামী ২ জানুয়ারি ঢাকার এলজিইডি ভবনের দ্বিতীয় তলায় ঢাকাসহ অন্যান্য এলাকার ভোটাররা তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এই লজিস্টিকস ম্যানেজমেন্ট (Logistics Management) জটিল হলেও, সংগঠনের বিস্তৃতি তুলে ধরে।
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে রাজশাহী কলেজ এইচএসসি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠিত হয়। সে বছর আয়োজিত এক পুনর্মিলনীর মাধ্যমে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়।
'ক' ও 'খ' প্যানেলের তারকা প্রার্থীরা
এবারের নির্বাচনে 'ক' ও 'খ' —এই দুটি প্যানেল সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
‘ক’ প্যানেল: এই প্যানেল থেকে সভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছেন কুয়েতের সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল (অব.) আসিকুজ্জামান তুষার। সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চিকিৎসক তাহসিনা শামীম ওরফে তাসু।
‘খ’ প্যানেল: এই প্যানেল থেকে সভাপতি পদে লড়ছেন রাজশাহীর সিডিএম হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক চৌধুরী সাইদুর রহমান ওরফে কোয়েল। সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছেন প্রিন্সিপাল মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ সালাম ওরফে বিপ্লব।
'খ' প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী চৌধুরী সাইদুর রহমান বলেন, সংগঠনটিকে শক্তিশালী করা এবং নিবিড় তত্ত্বাবধানে কাজ করার মিশন (Mission) নিয়ে তারা রাজশাহী থেকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী দিয়েছেন। অন্যদিকে 'ক' প্যানেলের সহসভাপতি প্রার্থী মালেকা মাকসুদা জানান, তাদের প্যানেলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে, যা অ্যাসোসিয়েশনকে আরও কার্যকর করতে অপরিহার্য। তাদের প্যানেলে রাজশাহীর ২০ জন, ঢাকার ২২ জন এবং চট্টগ্রামের একজন প্রার্থী রয়েছেন। তার মতে, অ্যাসোসিয়েশনকে একটি শক্তিশালী এন্টারপ্রাইজ (Enterprise) হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের রিপ্রেজেন্টেশন (Representation) নিশ্চিত করা জরুরি।