দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে এক ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণে বাংলাদেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গত বৃহস্পতিবার ঢাকা অবতরণের পর আজ শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) তিনি তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে যাচ্ছেন। কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি আজ দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে তাঁর পিতা, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করবেন এবং পরবর্তীতে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।
বাবার স্মৃতিতে শ্রদ্ধা: গুলশান থেকে শেরেবাংলা নগর
দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করে গুলশানের বাসভবন থেকে যাত্রা শুরু করবেন তারেক রহমান। তাঁর প্রথম গন্তব্য শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার। সেখানে তিনি পবিত্র ফাতেহা পাঠ করবেন এবং বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেবেন। ১৭ বছর পর দেশের মাটিতে বাবার কবরের পাশে এই জিয়ারত বিএনপির নেতা-কর্মীদের জন্য অত্যন্ত আবেগঘন এক মুহূর্ত হতে যাচ্ছে। মাজার প্রাঙ্গণে এবং সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি দলীয় ভলান্টিয়াররা কাজ করছেন।
সাভারে বীর শহীদদের প্রতি নিবেদন
মাজার জিয়ারত শেষে তারেক রহমান সরাসরি সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। মহান স্বাধীনতার বীর সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তিনি স্মৃতিসৌধের মূল বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। তারেক রহমানের এই সফরকে কেন্দ্র করে সাভার এলাকায় এক উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
সাভার গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন খান আনু জানিয়েছেন, “বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের আগমন উপলক্ষে আমরা প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় মর্যাদার সাথে সঙ্গতি রেখে সকল ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
জনসমুদ্রের হাতছানি ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা
তারেক রহমানকে একনজর দেখার জন্য সকাল থেকেই ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক এবং জাতীয় স্মৃতিসৌধ সংলগ্ন এলাকায় নেতা-কর্মীদের ঢল নামতে শুরু করেছে। স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনগুলোর দেওয়া তথ্যমতে, সাভারে আজ প্রায় ৫০ হাজারের বেশি মানুষের এক বিশাল Mass Gathering বা গণজমায়েতের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তার বিষয়ে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলাম বলেন, “তারেক রহমানের সফরকে কেন্দ্র করে যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সেজন্য আমরা নিশ্ছিদ্র Security Protocol নিশ্চিত করেছি। পুরো এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।”
এক নজরে ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন
এর আগে, গত ২৫ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) দীর্ঘ ১৭ বছর পর লন্ডন থেকে প্রিয় মাতৃভূমিতে পদার্পণ করেন তারেক রহমান। তাঁকে স্বাগত জানাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ‘জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে’ (৩০০ ফিট) পর্যন্ত অগণিত মানুষের উপস্থিতি এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা করেছিল। গতকাল বিকেলে এক বিশাল গণসংবর্ধনায় (Grand Reception) উপস্থিত হয়ে তিনি তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ এবং আগামীর পথচলা বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।