বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (BPL) ১২তম আসর নিয়ে আলোচনার চেয়ে সমালোচনা ছিল বেশি। মাঠের বাইরের নানা বিতর্ক সঙ্গী করেই অবশেষে মাঠে গড়িয়েছে দেশের এই ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট। তবে মাঠের লড়াই শুরু হতেই যেন সব বিতর্ক উবে গেল নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাটের তোড়ে। বিপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে ঘরের মাঠের দর্শকদের উন্মাদনাকে স্তব্ধ করে দিয়ে এক নান্দনিক সেঞ্চুরি উপহার দিলেন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স অধিনায়ক। শান্তর খুনে ব্যাটিং আর মুশফিকুর রহিমের অভিজ্ঞতাপূর্ণ ইনিংসে ভর করে সহজ জয় দিয়েই যাত্রা শুরু করল রাজশাহী।
সিলেটের লড়াকু পুঁজি ও দর্শকদের উন্মাদনা
ঘরের মাঠ সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৯০ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় সিলেট টাইটান্স। গ্যালারিভর্তি সিলেটি দর্শকদের গগনবিদারী স্লোগান আর উদ্দীপনা স্বাগতিক ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছিল বহুগুণ। কিন্তু জয়ের জন্য ১৯১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স যে এমন 'ক্লিনিক্যাল ফিনিশ' দেখাবে, তা হয়তো কল্পনাও করতে পারেনি সিলেটের সমর্থকরা।
রাজশাহীর শুরু ও শান্তর গিয়ার পরিবর্তন
জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা কিছুটা দেখেশুনেই করেছিলেন দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও শাহিবজাদা ফারহান। তবে দলীয় ১৯ রানেই তানজিদ (১০) বিদায় নিলে চাপে পড়ে রাজশাহী। এরপর শাহিবজাদাও (২০) সাজঘরে ফিরলে উইকেটে আসেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ইনিংসের শুরুর দিকে সময় নিলেও থিতু হওয়ার পর প্রতিপক্ষ বোলারদের ওপর রীতিমতো শাসন চালাতে শুরু করেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এসে আগ্রাসী ব্যাটিং বা Aggressive Batting-এর মাধ্যমে ম্যাচের Momentum পুরোপুরি রাজশাহীর দিকে ঘুরিয়ে দেন তিনি।
শান্ত-মুশফিক জুটির শাসন
তিন নম্বরে নামা শান্তর সঙ্গে অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম যোগ দিলে সিলেটের বোলারদের আর কোনো সুযোগই দেয়নি রাজশাহী। শান্ত যখন মাঠের চারপাশে চারের প্রদর্শনী চালাচ্ছিলেন, মুশফিক তখন অপর প্রান্ত আগলে রেখে স্কোরবোর্ড সচল রাখছিলেন। শান্তর ৬০ বলে খেলা ১০০ রানের ইনিংসটি ছিল ১০টি চার ও ৫টি চোখধাঁধানো ছক্কায় সাজানো। বিপিএলে এটি তার দ্বিতীয় সেঞ্চুরি; এর আগে ২০২০ সালে খুলনা টাইগার্সের হয়ে ১১৫ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। অন্যদিকে, মুশফিকুর রহিমও দেখিয়েছেন কেন তাকে এই ফরম্যাটের অন্যতম ভরসা ধরা হয়। ৩১ বলে ৫১ রানের এক অপরাজিত ইনিংস খেলে দলের জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়েন তিনি।
উদ্বোধনী ম্যাচেই বড় বার্তা
রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ম্যাচটি জিতে নেয় ২ বল হাতে রেখেই। এই জয়ের মাধ্যমে বাকি প্রতিপক্ষদের শান্ত একটি শক্তিশালী বার্তা বা Strong Message দিয়ে রাখলেন। প্রতিকূল পরিবেশ এবং বড় লক্ষ্য তাড়া করেও কীভাবে মাথা ঠান্ডা রেখে ম্যাচ বের করে আনতে হয়, তাই যেন আজ সিলেটে দেখালেন তিনি। সিলেটের বোলাররা বিশেষ করে খালেদ আহমেদ বা হজরতউল্লাহ জাজাইরা শুরুর ব্রেক-থ্রু এনে দিলেও শান্ত-মুশফিক জুটির সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছেন।
উদ্বোধনী ম্যাচে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে শান্ত যেমন নিজের ব্যক্তিগত ফর্মের জানান দিলেন, তেমনি ১২তম বিপিএল আসরকে ক্রিকেটীয় বিনোদনে নতুন মাত্রা দিলেন। সমালোচকদের বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মাঠের পারফরম্যান্সই এখন হয়ে উঠেছে বিপিএলের আসল বিজ্ঞাপন।