• জাতীয়
  • এনইআইআর চালুর পরেও অবৈধ মোবাইল বন্ধ হচ্ছে না ৯০ দিনে: বিভ্রান্তি দূর করলেন ফয়েজ তৈয়্যব

এনইআইআর চালুর পরেও অবৈধ মোবাইল বন্ধ হচ্ছে না ৯০ দিনে: বিভ্রান্তি দূর করলেন ফয়েজ তৈয়্যব

ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালুর পর ব্যবহারকারীদের মনে তৈরি হওয়া প্রশ্ন ও বিভ্রান্তি নিয়ে মুখ খুললেন ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
এনইআইআর চালুর পরেও অবৈধ মোবাইল বন্ধ হচ্ছে না ৯০ দিনে: বিভ্রান্তি দূর করলেন ফয়েজ তৈয়্যব

দেশের মোবাইল ফোন বাজারে অবৈধ হ্যান্ডসেট নিয়ন্ত্রণে ০১ জানুয়ারি থেকে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালু হলেও ব্যবহারকারীদের মধ্যে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, এনইআইআর চালুর পরেও আগামী ৯০ দিনের মধ্যে কোনো অবৈধ বা ক্লোন করা হ্যান্ডসেট বন্ধ হবে না। এছাড়াও, এনআইডি-তে অস্বাভাবিক সংখ্যক হ্যান্ডসেট রেজিস্ট্রেশন দেখানোর কারণও তিনি ব্যাখ্যা করেছেন।

এনইআইআর চালুর উদ্দেশ্য ও বিভ্রান্তি

অবৈধ ও অননুমোদিত হ্যান্ডসেট ব্যবহারে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ আনতে গত ০১ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালু হয়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে মোবাইল নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত সব ফোনের আইএমইআই নম্বর জাতীয় ডাটাবেজে যুক্ত করা হচ্ছে। এর ফলে চোরাই ও অবৈধ মোবাইল ফোন শনাক্ত করা সহজ হবে। কিন্তু এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর অনেক ব্যবহারকারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) বিপরীতে অস্বাভাবিকভাবে একাধিক মোবাইল ফোন রেজিস্ট্রেশন দেখানো নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

৯০ দিন সময়, প্যানিক না হওয়ার অনুরোধ

মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের মধ্যে তৈরি হওয়া এই বিভ্রান্তি দূর করতে প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব শুক্রবার (০২ ডিসেম্বর) দুপুরে তাঁর ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দেন। তিনি সেখানে স্পষ্ট করেন, “এনইআইআর চালুর পরেও আগামী ৯০ দিন কারও অবৈধ কিংবা ক্লোন করা হ্যান্ডসেট বন্ধ হবে না। সুতরাং বিনীতভাবে অনুরোধ করছি কেউ প্যানিকড হবেন না।”।

এনআইডি-তে একাধিক হ্যান্ডসেট দেখানোর কারণ

এনআইডিতে অনেক ফোন সচল দেখানোর কারণ হিসেবে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানান, মোবাইল অপারেটররা প্রায় তিন বিলিয়নেরও বেশি 'হিস্টোরিক ডেটা' সহ সবকিছুই সিস্টেমে তুলেছে। মাইগ্রেশনের তারিখটা এখনকার দেখানো হয়েছে বলে অনেকের এনআইডিতে সচল সিম বা হ্যান্ডসেটের সংখ্যা বেশি দেখাচ্ছে। তিনি বলেন, বিটিআরসি (BTRC) এবং মোবাইল অপারেটররা যৌথভাবে এই সমস্যা সমাধানে কাজ করছে। ধীরে ধীরে পুরোনো ডেটা 'ব্যাকগ্রাউন্ডে আর্কাইভ' করে শুধুমাত্র বর্তমানে সচল হ্যান্ডসেটের সংখ্যা দেখানো হবে। এর জন্য কিছুটা সময় লাগবে।

নাগরিক সচেতনতা ও ডাটাবেজ নিরাপত্তা

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আরও বলেন, এনইআইআর ম্যাপিংয়ে এনআইডির বিপরীতে পুরোনো ডেটায় অনেক বেশি হ্যান্ডসেটের সংখ্যা দেখানো স্বাভাবিক। কারণ বাংলাদেশে একজন ব্যক্তির একটি এনআইডির বিপরীতে প্রথমে ২০টি এবং পরে ১৫টি পর্যন্ত সিম ব্যবহারের অনুমতি ছিল, যা বর্তমানে ১০-এ নামিয়ে আনা হচ্ছে।

তিনি মনে করেন, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যক্তির এনআইডির বিপরীতে কত সিম বা ডিভাইস ব্যবহার হয়েছিল, সে বিষয়ে সমাজের সচেতনতা তৈরি হবে। ব্যক্তির নিবন্ধিত সিম বা ডিভাইসে মোবাইল ব্যাংকিং ও অনলাইন জুয়া সংক্রান্ত কোনো আর্থিক অপরাধ হচ্ছে কিনা, তা জানা ব্যক্তির নাগরিক অধিকার।

ডাটাবেজের নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি জানান, নিরাপদ ডিজিটাল টোকেন JWT কাজ করছে এবং 'রেট লিমিট' করা হয়েছে। অধিকতর নিরাপত্তার জন্য একটি নতুন 'লেয়ার' যুক্ত করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। তিনি সিস্টেম সংক্রান্ত জটিল ইস্যুগুলো সামনে এনে দেওয়ার জন্য সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং জানান যে কর্তৃপক্ষ এসব সমস্যা সমাধান করবে।

Tags: btrc technology news neir mobile handset fayez ahmad tayyab illegal mobile