মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোরে চিরবিদায় নিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের পতনে দেশজুড়ে বইছে শোকের ছায়া। রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে সেই শোক স্পর্শ করেছে সংস্কৃতি ও বিনোদন অঙ্গনকেও। প্রিয় নেত্রীর প্রয়াণে নিজের দীর্ঘদিনের সযত্নে রাখা একটি গান উৎসর্গ করে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন জনপ্রিয় গীতিকার, সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী শফিক তুহিন। ‘আপসহীন নেত্রী’ শিরোনামের গানটি প্রকাশের পর মুহূর্তেই তা বিভিন্ন Social Media প্ল্যাটফর্মে ভাইরাল হয়ে পড়ে।
নেত্রীর স্মৃতিতে সুরের মূর্ছনা
শফিক তুহিনের কণ্ঠ, কথা ও সুরে গানটি বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের আপসহীন সংগ্রামকে ফুটিয়ে তুলেছে। গানের বিশেষ কিছু পঙক্তি শ্রোতাদের হৃদয়ে দাগ কেটেছে— “আপসহীন নেত্রী তুমি আপস করোনি বলে/ দেশের মানুষ দেশের প্রয়োজনে তোমার কথাই বলে/ তোমার নামে স্লোগান দিলে/ রক্তে আগুন জ্বলে।”
গানটি গত ৩০ ডিসেম্বর শফিক তুহিনের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজসহ অন্যান্য Digital Platform-এ অবমুক্ত করা হয়। বেগম জিয়ার দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনের প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠা এই গানটি এখন দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের ওয়ালে ওয়ালে ঘুরছে।
গানের নেপথ্য কথা: অসম্পূর্ণ রয়ে গেল চিত্রায়ণ
গানটি প্রকাশের প্রেক্ষাপট নিয়ে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেছেন শফিক তুহিন। তিনি জানান, গানটি বর্তমান বছরের শুরুর দিকেই তৈরি করা হয়েছিল। ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) যখন লন্ডনে চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরেন, তখন গানটি তাকে শোনানো হয়েছিল। শফিক তুহিন বলেন, “ম্যাডাম গানটি শুনেছিলেন এবং পছন্দ করেছিলেন। আমাদের পরিকল্পনা ছিল বড় পরিসরে গানটির Music Video বা চিত্রায়ণ করার। এরপর তা ইউটিউবসহ সব বড় প্ল্যাটফর্মে রিলিজ দেওয়ার কথা ছিল।”
তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় সেই পরিকল্পনা আর বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। শিল্পী আরও বলেন, “ম্যাডাম আবারও অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেন, এরপর পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছাল যে আমি আর এগোতে পারিনি। আজ তার বিদায়বেলায় গানটি তাকে উৎসর্গ করেই প্রকাশ করলাম। এটি তার প্রতি আমার ক্ষুদ্র এক শ্রদ্ধাঞ্জলি।”
এক বর্ণাঢ্য জীবনের অবসান
দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতার সঙ্গে লড়াই করছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। লিভার সিরোসিস, কিডনি জটিলতা, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও আথ্রাইটিসসহ একাধিক সংক্রমণে ভুগছিলেন তিনি। রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে (Evercare Hospital) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার ভোর ৬টায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি হয়েছে।
শফিক তুহিনের এই গানটি কেবল একটি সংগীত নয়, বরং এটি একজন নেত্রীর প্রতি একজন শিল্পীর গভীর অনুরাগ এবং রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি ডিজিটাল দলিল হিসেবে থেকে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।